খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 2শে কার্তিক ১৪৩২ | ১৭ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
গাজীপুর মহানগরীর টেক কাথোরা এলাকায় চাঁদা না পেয়ে একটি রিসোর্ট বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির এক স্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে। গত বুধবার সকালে রিসোর্টের প্রধান ফটকে এক ট্রাক বালু ফেলে প্রবেশপথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। এ সময় রিসোর্টের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। যাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ, তিনি হলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক ও টেক কাথোরা এলাকার বাসিন্দা মো. রাসেল রানা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, টেক কাথোরা এলাকার ‘রিভেরি’ নামের রিসোর্টটি প্রায় ১০ বছর ধরে পরিচালনা করছেন ব্যবসায়ী এহছানুল কাদীর। গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে বিএনপি নেতা রাসেল রানা বিভিন্নভাবে রিসোর্টের অতিথি, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছেন। কয়েক মাস ধরে তিনি প্রতি মাসে ৬৫ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না দিলে রিসোর্ট বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিতেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, রাসেল রানা ৪ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে রিসোর্টের কার্যক্রম বন্ধের সময়সীমা বেঁধে দেন। অন্যথায় রিসোর্টে হামলা, ভাঙচুর ও স্টাফদের মারধরের হুমকি দেন। এছাড়া রিসোর্টের যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত দুটি অফিসিয়াল ফোন নম্বর বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেন, যাতে কেউ যোগাযোগ করতে না পারে।
এক ফোনালাপে রাসেল রানাকে রিসোর্টের ব্যবস্থাপক মাহবুবকে বলতে শোনা যায়, ‘সমাধান না হওয়া পর্যন্ত চেয়ারম্যান রিসোর্টে ঢুকতে পারবে না। এখন থেকে একটা গেস্টও যেন না ঢোকে, আমি সিকিউরিটিকে বলে দিচ্ছি।’ ফোনালাপে তিনি আরও বলেন, ‘চেয়ারম্যান এখানে আসলে আমি এলাকার লোক নিয়ে ভিতরে ঢুকব। এখনই গেইটে তালা দাও।’
রিসোর্টের চেয়ারম্যান এহছানুল কাদীর অভিযোগ করেন, রাসেল রানা তার লোকজন নিয়ে ব্যবস্থাপকের কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যান এবং নিয়মিত ৬৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা রাসেল রানা বলেন, ‘ওই রিসোর্টে অবৈধ কাজ হয়। তাই এলাকার লোকজন নিয়ে সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’ গেটের সামনে বালুর ট্রাক ফেলার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেও দাবি করেন।
গাজীপুর সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সিদ্দিক হোসেন বলেন, ‘রিসোর্ট বন্ধ ও চাঁদা দাবির অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকে রিসোর্ট চালু করতে বলেছি, তবে তারা ভয় পাচ্ছে। অভিযুক্ত রাসেল রানা চাঁদা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।’
খবরওয়ালা/এন