খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ২২ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে হাফিজুর রহমান নামে এক ব্যক্তি জন্মের মাত্র তিন বছর পর বিয়ের পর বাবা হয়েছেন বলে নথিভুক্ত করেছেন, যার ফলে তার নিজের ছেলের সঙ্গে বয়সের পার্থক্য মাত্র তিন বছর। বিষয়টি শুনতে বিস্ময়কর হলেও, অর্থের বিনিময়ে বয়স জালিয়াতি করে গ্রামপুলিশের চাকরি নেওয়ার এমন ঘটনা উপজেলায় ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি করেছে।
জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্র নদে বিচ্ছিন্ন রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের পুরাতন যাদুরচর গ্রামের বাসিন্দা হাফিজুর রহমান। তার রয়েছে স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে। কয়েক বছর আগে তিনি সন্তানদের বিয়েও দিয়েছেন। তবে গ্রামপুলিশের পদ পাওয়ার জন্য ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সরবেশ আলীর সহায়তায় জন্ম নিবন্ধনে বয়স পরিবর্তন করে ২৯ বছর দেখিয়ে তিনি চাকরি নেন।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, শুধু হাফিজুর নয়, গত আগস্টে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ১৯ জন গ্রামপুলিশ নিয়োগ দেওয়া হয়। জনপ্রতি প্রায় চার লাখ টাকা করে নিয়ে মোট প্রায় কোটি টাকার লেনদেন করেছে একটি সিন্ডিকেট।
হাফিজুর গত ২৮ আগস্ট বয়স জালিয়াতি করে চাকরিতে যোগ দেন। এর আগে ৬ মে রৌমারী উপজেলা প্রশাসন যাদুরচর ইউনিয়নে দুইজন, দাঁতভাঙায় সাতজন, রৌমারী ইউনিয়নে পাঁচজন, বন্দবেড়ে চারজন এবং শৌলমারীতে একজন গ্রামপুলিশ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।
তথ্যানুযায়ী, জাতীয় পরিচয়পত্রে ভোটার তালিকার ২৩১ নম্বরে হাফিজুর রহমান আব্দুস ছামাদ ও দরদী বেগমের ছেলে হিসেবে নিবন্ধিত। সেখানে তার জন্ম তারিখ ৭ মে ১৯৮৫। কিন্তু তিনি চলতি বছরের ২৭ মে নতুন করে জন্ম নিবন্ধন করেন, যেখানে তার জন্ম ৭ মে ১৯৯৬ উল্লেখ করা হয়। তার জন্ম সনদ নম্বর ১৯৯৬৪৯৯১৭৯৩৫১৩৬৩০৪। অথচ তার ছেলে নয়ন মিয়ার জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্মসাল ১ মার্চ ১৯৯৯—যার ফলে কাগজে-কলমে বাবা ছেলের চেয়ে মাত্র তিন বছরের বড় এবং বড় মেয়ের চেয়ে দেড় বছরের বড়।
ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রবিউল হক জানান, হাফিজুর ও তার পরিবার সবাই এ ওয়ার্ডের ভোটার। কিন্তু জন্ম নিবন্ধনের মাধ্যমে বয়স পরিবর্তন করে তিনি চাকরি নিয়েছেন। তার এনআইডি থাকা সত্ত্বেও বয়স জালিয়াতির ঘটনা অর্থ লেনদেন ছাড়া সম্ভব নয় বলেও তিনি দাবি করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সদ্য নিয়োগ পাওয়া এক গ্রামপুলিশ বলেন, চেয়ারম্যান সরবেশ আলী তার কাছ থেকে তিন লাখ টাকা নিয়েছেন। শুনেছেন, প্রতিজনকে তিন থেকে চার লাখ টাকা করে নিয়ে চাকরি দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান দাবি করেন, তিনি ১৫ বছর বয়সে বিয়ে করেছেন এবং ভোটার আইডিতে বয়স ভুল রয়েছে। তিনি জন্ম নিবন্ধনের তথ্য অনুযায়ী চাকরি পেয়েছেন বলেই জানান।
তবে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সরবেশ আলী দাবি করেন, হাফিজুরের স্কুল ও জন্ম নিবন্ধন সনদ যাচাই করে চাকরি দেওয়া হয়েছে, কোনো অর্থ লেনদেন হয়নি।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জল কুমার হালদার জানান, বয়স জালিয়াতির অভিযোগ কেউ দিলে তদন্ত করা হবে।
খবরওয়ালা/টিএসএন