খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার বাকিলা বাজারে একটি ত্রুটিপূর্ণ প্রেসক্রিপশনের কারণে ১২ বছরের এক শিশু মারাত্মক শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হয়েছে। জ্বরের চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হলেও শিশুটিকে দেওয়া হয় মানসিক রোগের ওষুধ, যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় তার স্নায়ুতন্ত্রে গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়।
গত ৭ জুলাই সকালে জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় আরাফাত পাঠান নামের ওই শিশুকে তার মা নিয়ে যান স্থানীয় ‘শুভ মেডিকেল হল’-এ। সেখানে কেমিস্ট ও ড্রাগিস্ট গৌতম কুমার দাস নিজের তৈরি প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ দেন এবং সঙ্গে সঙ্গে সেবন করান। কিছু সময়ের মধ্যেই শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে—চোখ বাঁকা হয়ে যায়, জিহ্বা বেরিয়ে আসে এবং শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।
পরবর্তীতে শিশুটিকে চাঁদপুর সদর হাসপাতাল থেকে কুমিল্লা, মুন হাসপাতাল এবং ঢাকার গ্রীন লাইফসহ মোট পাঁচটি হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়। চিকিৎসকরা জানান, শিশুদের জন্য মানসিক রোগের ওষুধ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এটি স্নায়ুতন্ত্রে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
ভুক্তভোগী শিশুর চাচা শাহাদাত পাঠান বলেন, “শুধু জ্বর ছিল, অথচ দেয়া হলো মানসিক রোগের ওষুধ! এর ফলে আমার ভাতিজা খাঁচাবন্দি পাগলের মতো আচরণ করতে শুরু করে—এটা অকল্পনীয়।”
শিশুটির পরিবার ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সেনা ক্যাম্প ও হাজীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আহমেদ তানভীর বলেন, “প্রেসক্রিপশন দেখে স্পষ্ট বোঝা যায়, এটি শিশুর জন্য একেবারেই অনুপযুক্ত। একজন কেমিস্ট কীভাবে প্রেসক্রিপশন তৈরি করতে পারেন—এটি আইনের চোখে বড় প্রশ্ন।”
হাজীগঞ্জ থানার ওসি মহিউদ্দিন ফারুক জানান, “বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। ওষুধ কেন ও কীভাবে দেয়া হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনে আল জাহিদ হোসেন বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”