খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৪ আগস্ট ২০২৫
রাজধানীতে বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলের গতকাল রবিবারের (৩ আগস্ট) সমাবেশে পোডিয়াম ব্যবহারকে কেন্দ্র করে তুমুল বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, ওই সমাবেশে ব্যবহৃত পোডিয়ামটি দেখতে অবিকল প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে ব্যবহৃত পোডিয়ামের মতো। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি বিশ্লেষণ করে অনেকেই দাবি করছেন, এটি গণভবন থেকে চুরি যাওয়া পোডিয়াম।
ছাত্রদলের সমাবেশে ব্যবহৃত পোডিয়ামের ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সেটির গঠন ও নকশা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে ব্যবহৃত পোডিয়ামের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবির সূত্র ধরে দাবি করা হচ্ছে, এটি সরকারি সম্পত্তি এবং কোনোভাবে তা সরকারি জায়গা থেকে বের করে এনে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া পোডিয়ামের ঠিক নিচে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের ফোন নাম্বার ও ঠিকানা সংবলিত স্টিকারও দেয়া আছে। ধারণা করা হচ্ছে এটি কোন প্রতিষ্ঠান থেকে ভাড়া করে আনা হয়েছে।
যদিও জাতীয় লোগো রাষ্ট্রীয় কোন অনুষ্ঠান ব্যতিত যেকোন রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে ব্যবহার আইনগতভাবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “পোডিয়ামটি আমাদের পুরনো সংগ্রহে ছিল। এটা কোথা থেকে এসেছে বা কবে এসেছে, সেটা আমি নিশ্চিত নই।’
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি যদি সত্যি প্রমাণিত হয় যে পোডিয়ামটি সরকারি মালিকানাধীন এবং কোনো অনুমোদন ছাড়া তা ব্যবহার করা হয়েছে, তাহলে এটি বাংলাদেশের দণ্ডবিধি অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধের আওতায় পড়ে।
বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩৭৮ ধারা অনুযায়ী চুরি সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে—যেখানে বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি যদি অন্যের অনুমতি বা অধিকার ছাড়া কোনো চলমান বা অচল সম্পদ গ্রহণ করে এবং তা নিজের বা অন্যের কাজে ব্যবহার করে, তবে তা চুরি হিসেবে বিবেচিত হবে।’
এছাড়া, সরকারি সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে আরও কঠোর আইন রয়েছে: ১৯৭৪ সালের সরকারী মালিকানা (অবৈধ দখল প্রতিরোধ) আইন অনুযায়ী, কোনো সরকারি সম্পত্তি দখল বা ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়া তা ব্যবহার করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
সরকারি জিনিসপত্র অপসারণ বা বিকৃতি ঘটানো হলে তা রাষ্ট্রদ্রোহের পর্যায়ে যেতে পারে, যদি উদ্দেশ্য হয় রাষ্ট্র বা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা।
আইনজীবীরা বলছেন, যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে পোডিয়ামটি সত্যিই গণভবন থেকে চুরি করা হয়েছে বা কোনো সরকারি গুদাম থেকে অবৈধভাবে সরানো হয়েছে, তাহলে জড়িতদের বিরুদ্ধে চুরি, রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি অপচয় এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের ধারায় মামলার আওতায় আনা যেতে পারে।
এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো তদন্তের ঘোষণা না আসলেও, রাজনৈতিক মহল থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
একজন প্রবীণ রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, ‘এটি শুধু একটি সামগ্রী চুরির বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রের মর্যাদা ও শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের ইঙ্গিত দেয়। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলুক, তবে সুষ্ঠু তদন্ত জরুরি।’
খবরওয়ালা/এমএজেড