খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঢাকা: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে স্মরণীয় করতে ছায়ানাট সাংস্কৃতিক কেন্দ্র শনিবার সকাল ১০:৩০ মিনিটে ধানমন্ডির অডিটোরিয়ামে একটি বৈচিত্র্যময় অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানটি গান, কবিতা ও স্মৃতিচারণের মাধ্যমে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আয়োজন করা হয়েছিল।
ছায়ানাটের সভাপতি সারোয়ার আলী অনুষ্ঠানে বলেন, “ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আধুনিক বাংলাদেশের একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপন হয়েছিল। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ সেই পথ ধরে এসেছে। আমরা ১৯৫২ সালের শহীদদের কাছে চিরঋণী, যারা আমাদের পরিচয় ও সাংস্কৃতিক অধিকার অর্জনের সুযোগ করে দিয়েছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, “একটি জাতি তার ভাষার মধ্য দিয়ে সংজ্ঞায়িত হয় এবং তার জীবনধারা প্রকাশ পায় সংস্কৃতির মাধ্যমে। ছায়ানাট এই সাংস্কৃতিক দায়িত্বকে সতত পালন করে আসছে।”
সারোয়ার আলী উল্লেখ করেন যে, ভাষা শুধুমাত্র কথ্য মাধ্যম নয়; এটি জাতীয় চেতনার অঙ্গ। তিনি বলেন, “একটি ভাষা যদি সংরক্ষিত না থাকে, তা বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। আমাদের ভাগ্য যে আমরা এমন একটি ভাষায় চিন্তা ও সৃষ্টি করি, যার সমৃদ্ধ ঐতিহ্য জাতিকে মর্যাদা দিয়েছে।”
তিনি জাতীয়তাবাদ নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, “ভাষা ধর্মের সীমারেখার উপরে উঠে মানুষের মিলন ঘটায়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের অনেক অংশগ্রহণকারী পরবর্তী দশকে ছায়ানাট প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যদি একুশে ভুলে যাওয়া হয়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটও হারিয়ে যাবে, আর বাঙালি জাতীয় পরিচয় টিকে থাকতে পারবে না।”
| শিল্পী/দল | রচনা/গান | রচয়িতা |
|---|---|---|
| কোরাস | “আমাদের চেতনার সাইকোতে” | নজিম মাহমুদ |
| সুষমিতা দেবনাথ শুচি | “মোদের গরব মোদের আশা” | অতুলপ্রসাদ সেন |
| ইফত বিনতে নাজির | “নিশিদিন ভরসা রাখিস” | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| ধ্রুব সরকার | “সালাম সালাম হাজার সালাম” | ফজল-এ-খুদা |
| প্রিয়ন্তু দেব | “অপমানে তুমি জ্বলে উঠেছিলে” | আবু হেনা মোস্তফা কামাল |
| ঐশ্বর্য সমদ্দার | “ও আমার এই বাংলা ভাষা” | আব্দুল লতিফ |
| মেহিত খান | “মাগো ধন্য হলো” | এস এম হেদায়েত |
| নুসরাত জাহান রুনা | “আমায় গন্যে দাও না মাগো” | নজরুল ইসলাম বাবু |
| অর্ণব বড়ুয়া | “মাগো আত-ই ফাল্গুনের কথা” | আব্দুল লতিফ |
| ফারজানা আফরিন এভা | “আমার দেশের মতো এমন” | অনন্য |
| সুমন মজুমদার | “ভেবো না গো মা তোমার ছেলেরা” | মোস্তাফিজুর রহমান |
| দালিয়া আহমেদ, দেওয়ান সইদুল হাসান | “মাতৃভূমির জন্য” ও “একুশে ফেব্রুয়ারি” | সৃজন সেন, আসিম সাহা |
অনুষ্ঠানের সমাপনী অংশে সব শিল্পী মিলিত হয়ে আব্দুল গফফার চৌধুরীর কালজয়ী গান “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি” পরিবেশন করেন। শেষে জাতীয় সঙ্গীত “আমার সোনার বাংলা” শোনানো হয়, যা উপস্থিত সবাইকে আবেগময় এক অভিজ্ঞতায় আবদ্ধ করে।
ছায়ানাটের এই আয়োজন প্রমাণ করে, কীভাবে সংগীত, কবিতা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য একত্রিত হয়ে একুশের বার্তা – ভাষা, পরিচয় ও স্বাধীনতার মর্যাদা – নতুন প্রজন্মের মনে গভীরভাবে প্রতিফলিত হতে পারে।