খোকসা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: 1শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ | ১৫ই মে ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক, নার্সসহ চরম জনবল সংকটে ভেঙে পড়েছে চিকিৎসা ব্যবস্থা। কাগজে-কলমে এটি ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও কার্যত মাত্র ২ জন চিকিৎসকের ওপর নির্ভর করে চলছে পুরো স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। তবে এই দুই চিকিৎসকও নিয়মিতভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। সংকট এতটাই চরমে উঠেছে যে, পিয়ন ও ওয়ার্ডবয়দের দিয়েই ব্যান্ডেজ, সেলাই থেকে শুরু করে বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা চালানো হচ্ছে। এতে রোগীদের ঝুঁকি বেড়েই চলেছে।
জানা গেছে, খোকসা উপজেলার প্রায় ২ লাখ মানুষের চিকিৎসার ভরসা এই একটি মাত্র সরকারি হাসপাতাল। পার্শ্ববর্তী পাংশা ও কুমারখালী থেকেও বহু রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। শুরুতে এটি ২০ শয্যার ছিল, পরে উন্নীত করা হয় ৫০ শয্যায়। কিন্তু ৫০ শয্যার এ হাসপাতালের চিকিৎসক পদের সংখ্যা ২২টি হলেও বর্তমানে ১৩টি পদ শূন্য রয়েছে। কর্মরত অন্যান্য চিকিৎসকদের অধিকাংশই ডেপুটেশনে অন্যত্র রয়েছেন। নার্স, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পদেও রয়েছে বড় ধরনের শূন্যতা—নার্সের ৬টি, তৃতীয় শ্রেণির ১৮টি ও চতুর্থ শ্রেণির ১৩টি পদ ফাঁকা।
হাসপাতালের ভেতরে পরিবেশও খুবই নাজুক। রোগীরা অভিযোগ করেছেন, নার্সদের ব্যবহার অমানবিক, খাবারের মান নিম্নমানের, এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা প্রায় অনুপস্থিত। দালাল চক্রও সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, যা সাধারণ রোগীদের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রাজীব কুমার সাহা বলেন, ‘এত কম সংখ্যক ডাক্তার দিয়ে আউটডোর, ইনডোর ও জরুরি বিভাগ চালাতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। পাশাপাশি হাসপাতালটিকে দালালমুক্ত করার জন্যও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবল সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়টি আমরা পরিচালককে অবহিত করেছি। খুব দ্রুতই এটি প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়কে জানানো হবে, যাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া যায়।’
স্থানীয়রা বলছেন, হাসপাতালের এই অব্যবস্থাপনা দীর্ঘদিনের। জনবল সংকট নিরসন করে দ্রুত চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে কার্যকরী পদক্ষেপের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
খবরওয়ালা/আরডি