খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 11শে কার্তিক ১৪৩২ | ২৬ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, সরকারি খাল উদ্ধারে অর্থ আত্মসাৎ এবং জমি বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ করেছেন উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের উত্তর কেবলনগর কাজী কান্দি চটান জামে মসজিদ এলাকার বাসিন্দা ও সরকারি জাজিরা মোহর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (সামাজিক বিজ্ঞান) লিয়াকত হোসেন।
লিয়াকত হোসেন জানান, তার পৈত্রিক সম্পত্তি ও ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া জমি দীর্ঘদিন ধরে তার চাচাতো ভাই রাজ্জাক বেপারী গং দখল করে রেখেছেন। জমি উদ্ধারের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে তিনি শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসানকে দায়িত্ব দেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ভূমি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জমি বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বাসে তার কাছে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরে শিক্ষক লিয়াকত হোসেন বাধ্য হয়ে ৮০ হাজার টাকা প্রদান করেন। ভূমি কর্মকর্তার পরামর্শে তিনি নিজ উদ্যোগে এক্সেভেটর মেশিন ভাড়া করে সরকারি খাল উদ্ধার করেন। কিন্তু কাজ শেষে কর্মকর্তাটি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী টাকা ফেরত বা জমি বুঝিয়ে দেননি।
লিয়াকত হোসেন বলেন, “আমি ভেবেছিলাম সরকারি কর্মকর্তার সহায়তায় আমার জমি ফিরে পাবো, কিন্তু তিনি উল্টো এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। আমি ৮০ হাজার টাকা দেই এবং তার পরামর্শে নিজ খরচে খাল উদ্ধার করি। এখন তিনি জমি বুঝিয়ে দিচ্ছেন না, খরচও ফেরত দিচ্ছেন না।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) তার প্রতিপক্ষের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে যোগসাজশে প্রতিবেদন আটকে রেখেছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষক জেলা প্রশাসক ও ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কাছে পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ আছে, জয়নগর ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা লিটনও মেহেদী হাসানের নামে অতিরিক্ত ৬০ হাজার টাকা গ্রহণ করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাজিরার এক বাসিন্দা বলেন, “এখন জাজিরার কোনো ইউনিয়নেই টাকা ছাড়া ভূমি অফিসে কাজ হয় না। আগের কর্মকর্তাদের সময় এমন ছিল না।”
যোগাযোগ করা হলে জাজিরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে অভিযোগ রয়েছে, তিনি উল্টো ওই শিক্ষককে বলেছেন ‘অভিযোগের ফল তাকে ভোগ করতে হবে’।
এ বিষয়ে শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
খবরওয়ালা/টিএসএন