খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 11শে আষাঢ় ১৪৩২ | ২৫ই জুন ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের সাবেক মহাপরিচালক মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী জাতীয় পরিবেশ পদকে ভূষিত হয়েছেন। ২০২৫ সালের জাতীয় পরিবেশ পদকে তিনি ব্যক্তি পর্যায়ে ‘পরিবেশবিষয়ক শিক্ষা ও প্রচার’ ক্যাটাগরিতে এই সম্মাননা অর্জন করেন।
বুধবার (২৫ জুন) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বিশ্ব পরিবেশ দিবস, জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান এবং পরিবেশ ও বৃক্ষ মেলা ২০২৫-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
মুনীর চৌধুরীর সঙ্গে ব্যক্তি পর্যায়ে আরও পুরস্কার পেয়েছেন পরিবেশবিদ মো. মাহমুদুল ইসলাম ও অধ্যাপক ড. এম ফিরোজ আহমেদ। প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে সম্মাননা পেয়েছে স্নোটেক্স আউটারওয়্যার লিমিটেড, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। পুরস্কারের সঙ্গে একটি ক্রেস্ট, সনদপত্র, স্বর্ণের সমমূল্যের নগদ অর্থ ও ৫০ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়।
সরকারি দায়িত্ব পালনকালে পরিবেশ সংরক্ষণে মুনীর চৌধুরীর ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম বন্দর, ওয়াসা, বিদ্যুৎ বিভাগ, খাদ্য নিরাপত্তা ও সমুদ্র পরিবহণ অধিদপ্তরে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ শিল্পকারখানা উচ্ছেদ, নদী ও সমুদ্র দূষণরোধ, ভেজালবিরোধী অভিযানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
তাঁর নেতৃত্বে প্রায় ৭০ শতাংশ দূষণকারী কারখানায় তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) স্থাপন বাধ্যতামূলক হয়। তাঁর অভিযানে প্রায় ৭০০ একর কৃষিজমি ও উপকূলীয় বনভূমি পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের জমি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানো এবং মিল্ক ভিটা পরিচালনায় দুর্নীতি দমন করে প্রতিষ্ঠানটিকে লাভজনক করায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পান তিনি।
জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের মহাপরিচালক থাকাকালে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে শিক্ষার্থীদের জন্য নানা কার্যক্রম ও প্রদর্শনীর আয়োজন করেন মুনীর চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে আরও দেওয়া হয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার, বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার এবং সামাজিক বনায়নের সর্বোচ্চ লভ্যাংশভোগীদের সম্মাননা। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য চার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পুরস্কার পান—নাটোরের মো. ফজলে রাব্বী, শেরপুর বার্ড কনজারভেশন সোসাইটি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. মনোয়ার হোসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের এক শিক্ষক।
বৃক্ষরোপণ ও সামাজিক বনায়নে অবদানের জন্য বিভিন্ন শ্রেণিতে পুরস্কার দেওয়া হয়। সামাজিক বনায়নে সর্বোচ্চ লভ্যাংশভোগী হিসেবে মো. শাহাজ উদ্দিন ৬ লাখ ৭ হাজার ৯৫০ টাকা, উকিল মুর্মু ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৩২৫ টাকা এবং মনোয়ারা বেগম ৪ লাখ ১৬ হাজার ৭০০ টাকা পান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. কামরুজ্জামান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. এজাজ ও বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী।
উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘পরিবেশ রক্ষায় জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে এ ধরনের পুরস্কার কার্যকর ভূমিকা রাখে।’
খবরওয়ালা/আরডি