খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের চুয়াল্লিশতম বার্ষিক অধিবেশন ও রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি চর্চা, মানবিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক অগ্রগতির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অভিনেত্রী ফেরদৌসী মজুমদার বলেন, আবার রবীন্দ্রচর্চা ও নজরুলচর্চা বিস্তার লাভ করবে এবং সংস্কৃতির অনুশীলনের মাধ্যমেই সমাজ পুনরায় আত্মমর্যাদায় মাথা তুলে দাঁড়াবে। তিনি উল্লেখ করেন, সংস্কৃতি চর্চা মানুষকে হিংসা, লোভ ও নৈতিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে সহায়তা করে। তাঁর বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, জীবন পরিস্থিতি স্থায়ী নয়; সুদিন ও দুর্দিন উভয়ই পরিবর্তনশীল, তাই সাহস ও সততার সঙ্গে সামনে এগিয়ে যাওয়াই জীবনের পথ।
সমাপনী দিনের কর্মসূচির সূচনা হয় গুণীজন সম্মাননা প্রদান দিয়ে। এ পর্বে অধ্যাপক সৈয়দ আকরাম হোসেনকে রবীন্দ্রপদক প্রদান করা হয়। তিনি সম্মাননা গ্রহণ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, এটি তাঁর জীবনের একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ অর্জন। তিনি ঋণের স্বীকৃতিকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে তুলে ধরেন।
এরপর কিশোর ও সাধারণ বিভাগে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ প্রতিযোগীদের মধ্যে সনদ ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অংশগ্রহণকারী মোট ছাপ্পান্ন জন প্রতিযোগীকে এ পর্যায়ে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল শোক প্রস্তাব উপস্থাপন। এতে প্রয়াত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা ব্যক্তিদের স্মরণ করা হয়। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের ওপর সংঘটিত হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার নিন্দা জানানো হয়। পরে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সম্মেলনের ঘোষণাপত্র পাঠের পর নতুন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। সর্বসম্মতভাবে মফিদুল হক সভাপতি, বুলবুল ইসলাম নির্বাহী সভাপতি, লিলি ইসলাম সাধারণ সম্পাদক এবং জহিরুল হক খান কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মোট একষট্টি সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়।
নিচে প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্তদের তালিকা উপস্থাপন করা হলো—
| পদ | নাম |
|---|---|
| সভাপতি | মফিদুল হক |
| নির্বাহী সভাপতি | বুলবুল ইসলাম |
| সাধারণ সম্পাদক | লিলি ইসলাম |
| কোষাধ্যক্ষ | জহিরুল হক খান |
সকালের কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত প্রতিনিধিরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সাংগঠনিক কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
একই দিনে “বিদ্যালয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও সংগীত” শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষাবিদ ও সংগীত ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় সংগীতচর্চার গুরুত্ব, সাংস্কৃতিক বিকাশ এবং তরুণ প্রজন্মকে সংগীতমুখী করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মতামত উপস্থাপন করেন।
দিনের শেষ পর্বে সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি সূচিত হয়। এতে দেশের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন। এরপর সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশিত হয়। পরিশেষে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে দুই দিনের এই অধিবেশন ও সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
সংগঠনটির ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯৭৯ সালে রবীন্দ্রসঙ্গীতশিল্পী জাহিদুর রহিমের প্রয়াণ দিবস স্মরণে তাঁর নামে স্মৃতি পরিষদের কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে সারাদেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে এর নাম পরিবর্তন করে রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ রাখা হয়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর বিরাশি শাখা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নবীন প্রজন্মের সংগীতচর্চাকে উৎসাহিত করতে প্রতিযোগিতাভিত্তিক জাহিদুর রহিম স্মৃতি পদক চালু রয়েছে, যা সংগীতচর্চার ধারাবাহিক বিকাশে ভূমিকা রেখে চলেছে।