খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 19শে মাঘ ১৪৩২ | ১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
জাপানে আফগানিস্তানের দূতাবাস আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, টোকিওতে আফগান রাষ্ট্রদূত শিদা মোহাম্মদ আবদালি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি বিবৃতিতে জানান, “ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমি টোকিও ছাড়ছি।” তিনি নিশ্চিত করেন, সেই দিন থেকে জাপানে আফগান দূতাবাসের সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
দূতাবাস বন্ধ হওয়ার আগে এটি আফগানিস্তান ও জাপানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছিল। এছাড়া জাপানে বসবাসরত আফগান নাগরিকদের জন্য পাসপোর্ট নবায়ন, ভিসা প্রসেসিং এবং অন্যান্য কনস্যুলার সেবা প্রদান করত।
দূতাবাস বন্ধ হওয়ার পেছনের প্রেক্ষাপটটি মূলত ২০২১ সালের আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর থেকে শুরু। তখন থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আফগান দূতাবাসগুলোর কার্যক্রম সংকুচিত বা স্থগিত হতে থাকে। অনেক সাবেক সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত কূটনীতিক বরখাস্ত হন এবং কিছু মিশনের কার্যক্রম রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপের কারণে সাময়িকভাবে পরিবর্তিত হয়।
জাপান এখনও তালেবান নেতৃত্বাধীন আফগান সরকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। দেশটি মূলত মানবিক সহায়তার মাধ্যমে সীমিত যোগাযোগ বজায় রাখছে এবং কূটনৈতিক স্বীকৃতি না দেওয়া সত্ত্বেও আফগান নাগরিকদের সহায়তায় কিছু কার্যক্রম পরিচালনা করত।
বিশ্বব্যাপী আফগান দূতাবাসের পরিস্থিতি নিম্নরূপ:
| দেশ | দূতাবাসের বর্তমান অবস্থা | কার্যক্রম সীমাবদ্ধতার কারণ |
|---|---|---|
| জাপান | বন্ধ | রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ |
| যুক্তরাষ্ট্র | কার্যক্রম সীমিত | তালেবান ক্ষমতা দখল |
| যুক্তরাজ্য | সীমিত কার্যক্রম | নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কারণে |
| কানাডা | কার্যক্রম স্থগিত | কূটনৈতিক স্বীকৃতি নেই |
| জার্মানি | সীমিত | মানবিক সহায়তা কেন্দ্র |
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আফগান দূতাবাসগুলোর এই সংকোচনের ফলে বিদেশে বসবাসরত আফগান নাগরিকদের জন্য কনস্যুলার সেবা পাওয়ার বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। পাসপোর্ট নবায়ন, ভিসা আবেদন এবং অন্যান্য জরুরি সেবা নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন, যাতে আফগান নাগরিকদের মৌলিক কনস্যুলার অধিকার নিশ্চিত করা যায়।
জাপানে আফগান দূতাবাস বন্ধ হলেও, মানবিক ও উন্নয়নমূলক সহায়তার মাধ্যমে আফগান জনগণের সঙ্গে সীমিত যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়টি জাপানি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ন দিক হিসেবে ধরা হচ্ছে।