খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম রূপকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এক তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণার মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। নবগঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং জামায়াতে ইসলামীর মধ্যকার সাম্প্রতিক নির্বাচনী সমঝোতার পর তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি এই এনসিপির অংশ হচ্ছেন না। রোববার রাতে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে একটি দীর্ঘ বিবৃতির মাধ্যমে তিনি তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করেন। জুলাই বিপ্লবের সম্মুখসারির এই নেতার সরে দাঁড়ানো এনসিপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং আদর্শিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা এই তরুণ নেতা উপদেষ্টা পরিষদ ছাড়ার পর তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে দেশজুড়ে যে কৌতূহল ছিল, এই বার্তার মাধ্যমে তিনি তার একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করলেন।
মাহফুজ আলম তাঁর বক্তব্যে অকপটে স্বীকার করেছেন যে, জামায়াত-এনসিপি জোট থেকে তাঁকে আসন্ন নির্বাচনে ঢাকার একটি আসনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থ বা নির্বাচনী আসন প্রাপ্তির চেয়ে নিজের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থানকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা কোনো নির্দিষ্ট দলের লেজুড়বৃত্তি করার জন্য ছিল না। এনসিপিকে একটি স্বতন্ত্র এবং শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখলেও নেতৃত্বের নানা সিদ্ধান্তে তা সম্ভব হয়নি বলে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইতিমধ্যে এনসিপির বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাও দলটির বর্তমান গতিপথ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং অনেকেই দল ত্যাগের পথে হাঁটছেন।
বিবৃতিতে মাহফুজ আলম বর্তমান সময়কে ইতিহাসের একটি ‘শীতল যুদ্ধের’ পর্ব হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, এই অস্থির সময়ে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের হয়ে রাজনীতি করার চেয়ে নিজেদের নীতি ও বক্তব্যে অটল থাকা অনেক বেশি কার্যকর। তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মূল স্লোগান ছিল ফ্যাসিবাদ নির্মূল এবং দায়-দরদের একটি নতুন সমাজ গঠন। কিন্তু বর্তমান এনসিপি সেই লক্ষ্যগুলো যথাযথভাবে ধারণ করতে পারছে কি না, তা নিয়ে তাঁর গুরুতর সংশয় রয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, জুলাই শক্তির সম্ভাবনা এখনও ফুরিয়ে যায়নি, বরং এক নতুন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে যেখানে তরুণরা বুদ্ধিবৃত্তিক উপায়ে নেতৃত্ব দেবে।
উপদেষ্টা পদ থেকে বিদায় নেওয়ার পর মাহফুজ আলম এখন নিজেকে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত করছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সামনের দিনগুলোতে তিনি নতুন অর্থনৈতিক বন্দোবস্ত এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে কাজ করে যাবেন। যারা তাঁর এই স্বতন্ত্র ও নীতিগত অবস্থানের সাথে একমত হবেন, তাঁদের সাথে নিয়ে তিনি নতুন রাজনৈতিক পথচলা শুরু করতে আগ্রহী। এনসিপি থেকে তাঁর এই দূরত্ব বজায় রাখা মূলত জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে রাখার একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহলে আলোচিত হচ্ছে। তাঁর মতে, মধ্যপন্থী ও বিকল্প তরুণ শক্তির উত্থান কেবল সময়ের অপেক্ষা।