খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এক বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পথ পরিবর্তন করে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী আসন সমঝোতায় এসেছেন। রোববার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমঝোতার ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার ফলে দেশের রাজনীতির মাঠে নতুন এক মেরুকরণ তৈরি হয়েছে, যা নির্বাচন বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
এই সমঝোতার প্রক্রিয়ার মধ্যেই এলডিপিতে বড় ধরনের ভাঙনের চিত্র ফুটে উঠেছে। দলের প্রভাবশালী মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ এলডিপি ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে যে, তিনি কুমিল্লা–৭ আসন থেকে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। দলের শীর্ষ পর্যায়ের এই ভাঙন সত্ত্বেও কর্নেল (অব.) অলি আহমদ তাঁর অবস্থানে অনড় থেকে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে নির্বাচনী জোটে শামিল হয়েছেন। তবে তিনি ঠিক কোন আসন থেকে নির্বাচন করবেন, সে বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
কর্নেল (অব.) অলি আহমদের রাজনৈতিক জীবন অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় এবং দীর্ঘ। তিনি একজন খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে সম্মুখ সমরের লড়াকু সৈনিক হিসেবে ‘বীর বিক্রম’ খেতাব অর্জন করেন। তাঁর সংক্ষিপ্ত রাজনৈতিক ও সামরিক ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো নিচে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | তথ্য ও বিবরণ |
|---|---|
| মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা | সাবসেক্টর কমান্ডার এবং ‘বীর বিক্রম’ খেতাবপ্রাপ্ত। |
| রাজনীতিতে অভিষেক | ১৯৮০ সালে সেনাবাহিনী ছেড়ে বিএনপিতে যোগদান। |
| মন্ত্রীত্ব | ১৯৯১–৯৬ মেয়াদে বিএনপি সরকারের যোগাযোগমন্ত্রী। |
| দল প্রতিষ্ঠা | ২০০৬ সালে বিএনপি ত্যাগ করে এলডিপি গঠন। |
| বর্তমান অবস্থান | জামায়াত-এনসিপি-এলডিপি নির্বাচনী সমঝোতার শরিক। |
জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে জামায়াতে ইসলামী বিভিন্ন সমমনা দলের সঙ্গে বৃহত্তর জোট গড়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। ইতিপূর্বে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)—এই ছয়টি দল আসন সমঝোতার ভিত্তিতে সব আসনে একক প্রার্থী দেওয়ার লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে আসছিল। পরবর্তীতে এতে যুক্ত হয় বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যে, পূর্বের আটটি দলের সঙ্গে এখন নতুন করে যুক্ত হয়েছে এনসিপি এবং অলি আহমদের এলডিপি। অর্থাৎ, মোট ১০টি দল আসন্ন নির্বাচনে অভিন্ন কৌশল নিয়ে মাঠে নামছে।
সংবাদ সম্মেলনে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ সশরীরে উপস্থিত থাকলেও তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রদান করেননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের সঙ্গে এলডিপির এই ঘনিষ্ঠতা ২০ দলীয় জোটের পুরোনো স্মৃতি ফিরিয়ে আনলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি বিএনপির সঙ্গে অলির সম্পর্কের চূড়ান্ত বিচ্ছেদের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এই বীর সৈনিক এখন জুলাই বিপ্লবের চেতনার কথা বলা তরুণদের দল এনসিপি এবং জামায়াতের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে নির্বাচনে কেমন প্রভাব ফেলবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা চলছে। এই আসন সমঝোতার মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী তাদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও সুসংহত করার চেষ্টা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।