জামালপুরে শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে কেন্দ্রীয় জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া কালিবাড়ী এলাকায় এক মর্মান্তিক বজ্রাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। বাড়ি ফেরার পথে বজ্রাঘাতে নিহত হয়েছেন ১৫ বছর বয়সী স্কুলছাত্র হৃদয় হাসান, যিনি এলাকার পরিচিত মধু মিয়ার ছেলে।
হৃদয় স্থানীয় মুকুল নিকেতন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হৃদয় সকালে গরুর জন্য ঘাস কাটছিল এবং ঘাস কেটে বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎ আকাশে ঘন কালো মেঘ জমে বজ্রসহ ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়। তিনি দ্রুত বাড়ি ফেরার চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত বাড়িতে নিয়ে আসেন, তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই হৃদয় মারা যান।
সদর থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং বলেন, “সকালের বৃষ্টির সময়ে বজ্রাঘাতের কারণে হৃদয় মারা গেছেন। এটি একটি দুঃখজনক ঘটনা। পরিবারকে সহায়তা করা হচ্ছে।”
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই অঞ্চলে বছরের শুরু থেকে বজ্রাঘাতের ঘটনায় কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিশেষত মাঠে কাজ করার সময় শিক্ষার্থী এবং কৃষকরা ঝুঁকিতে থাকে।
নিম্নের টেবিলটি সাম্প্রতিক কয়েক বছরের জামালপুরে বজ্রাঘাতের ফলে মৃত্যুর তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরেছে:
| সাল |
নিহতের সংখ্যা |
অবস্থান |
মন্তব্য |
| ২০২৩ |
৫ |
জামালপুর সদর ও জেলার বিভিন্ন এলাকা |
মূলত কৃষক ও ছাত্রদের মধ্যে |
| ২০২৪ |
৩ |
সদর, মহিষমারী |
মাঠে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতের ঘটনা |
| ২০২৬ |
১ |
কেন্দ্রীয় জামালপুর সদর |
হৃদয় হাসান, স্কুলছাত্র |
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বজ্রাঘাত থেকে রক্ষা পেতে শিশু ও প্রবীণদের বৃষ্টির সময় খোলা মাঠে থাকা এড়িয়ে চলা উচিত। বজ্রপাতের সময়ে ঘর বা নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা সবচেয়ে নিরাপদ।
পরিবারের বরাত দিয়ে স্থানীয়রা বলছেন, হৃদয় হাসান খুবই শান্ত স্বভাবের ছিল এবং পড়াশোনায় মনোযোগী। এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা পুরো গ্রামের মানুষকে শোকাহত করেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ইতিমধ্যে পরিবারের পাশে রয়েছে এবং এলাকায় সচেতনতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে।
এই ঘটনা সতর্কবার্তা হিসেবে স্থানীয়রা মনে করছেন, বিশেষ করে বৃষ্টির আগে এবং ঝড়ের সময় মাঠে কাজ করা শিক্ষার্থী ও কৃষকদের আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।