খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 24শে কার্তিক ১৪৩২ | ৮ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ব্যক্তিগত সংগ্রহের বইগুলো কেজি দরে বিক্রি করেছে বাংলা একাডেমি। তবে কিছু বই—বিশেষ করে শহীদুল্লা কায়সারের ‘সংশপ্তক’—অনলাইনে লাখ টাকারও বেশি দামে বিক্রির জন্য ধরা হয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
পুরনো বই বিক্রির ফেসবুক পেজ ‘পুস্তক জোন’ ২২ সেপ্টেম্বর জর্জ বার্নাড শের ‘প্লেস আনপ্লিজেন্ট’ বইটি বিক্রির জন্য পোস্ট দেয়। বইটির ভেতরে ছিল বাংলা একাডেমির সিল এবং লেখা—‘জাহানারা ইমামের ব্যক্তিগত সংগ্রহ’। এ ধরনের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেখা গেছে, অন্তত ২০টি বাংলা ও ইংরেজি বই বাংলা একাডেমি থেকে কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।
জাহানারা ইমামের পরিবার যে বইগুলো একাডেমিকে দিয়েছিল, তা বিক্রির বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দার মুখে পড়েছে। কেউ লিখেছেন, “বাংলা একাডেমির সংগ্রহ এখন ফুটপাতে,” আবার কেউ লিখেছেন, “এভাবে কি দেশের ইতিহাস নষ্ট করা হচ্ছে না?”
বিশেষ বইগুলোর মধ্যে আছে শহীদ আখন্দের ‘পাখির গান বনের ছায়া’, যা শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর আঁকা প্রচ্ছদসহ জাহানারা ইমামের কাছে উপহার হিসেবে গিয়েছিল। এছাড়া ১৯৬৮ সালে মস্কোর প্রকাশনী থেকে প্রাপ্ত ম্যাক্সিম গোর্কির ‘মা’ উপন্যাসও বিক্রি হয়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত ‘সংশপ্তক’ বইটির জন্য ফেসবুক পেজ ‘বিচিত্র বিচিত্র বই’ ৩১ আগস্ট থেকে অনলাইনে বিক্রির ঘোষণা দেয়। এই বইটি শহীদুল্লা কায়সার নিজে ১৯৬৭ সালে জাহানারা ইমাম ও তার স্বামীকে উপহার দিয়েছিলেন।
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম জানান, ২০১৪ সালে একাডেমির গ্রন্থাগারে থাকা বই বাছাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ডুপ্লিকেট ও মানহীন বই বাছাই করে সেইগুলো বিক্রি করা হয়েছে। এসব বই আগে একাডেমির দোতলার কক্ষে সংরক্ষিত ছিল।
তিনি আরও জানান, বইমেলার সময় প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক বই জমা দেওয়া হয়। লাইব্রেরির জন্য যোগ্য বই সংরক্ষণ করা হয় এবং অব্যবহৃত বইগুলো বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়।