খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 17শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সিলেট সফরের অংশ হিসেবে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে সার্কিট হাউজে সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় মিলিত হন সরকারের শীর্ষস্থানীয় একাধিক মন্ত্রী। সভায় দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং বৈশ্বিক মন্দা মোকাবিলায় সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। আলোচনা শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির দেশের কর ব্যবস্থা এবং রাজস্ব নীতি নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী কর ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ করছেন। তবে সরকারের লক্ষ্য ব্যক্তি পর্যায়ে করের বোঝা বাড়ানো নয়, বরং সামগ্রিক জাতীয় আয়ের বিপরীতে কর আদায়ের হার বা ‘ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও’ (Tax-GDP Ratio) বাড়ানো। তিনি উল্লেখ করেন যে, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের জিডিপির তুলনায় কর আদায়ের হার অপেক্ষাকৃত কম, যা টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সরকার নতুন করদাতা খুঁজে বের করা এবং রাজস্ব ফাঁকি রোধের মাধ্যমে এই অনুপাত বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান যে, বাংলাদেশ বৈশ্বিক বাণিজ্যে নিজের অবস্থান সুসংহত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি’ বা এফটিএ (Free Trade Agreement) নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এছাড়া আসন্ন রমজান ও ঈদ পরবর্তী সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতির কারণে বিশ্বজুড়ে যে অর্থনৈতিক মন্দা চলছে, তার প্রভাব বাংলাদেশেও কিছুটা অনুভূত হচ্ছে। তবে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার বিশেষ নজর দিচ্ছে যাতে তারা সময়মতো বেতন-ভাতা পেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ উদযাপন করতে পারে।
সভায় উপস্থিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীবর্গের বক্তব্যের মূল সারাংশ নিচে টেবিল আকারে দেওয়া হলো:
| মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রী | প্রধান আলোচনার বিষয়বস্তু ও দিকনির্দেশনা |
| বাণিজ্য মন্ত্রণালয় (খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির) | ইইউ-এর সাথে এফটিএ চুক্তি, বাজার স্থিতিশীলতা এবং শ্রমিকদের বেতন নিশ্চিতকরণ। |
| পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় (শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি) | বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী-ভাঙন রোধ এবং হাওর অঞ্চলে টেকসই বাঁধ নির্মাণ। |
| প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় (আরিফুল হক চৌধুরী) | সৌদি আরব ও মালয়েশিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের বন্ধ শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগ। |
| অর্থ মন্ত্রণালয় (নীতিগত অবস্থান) | ব্যক্তি পর্যায়ে অতিরিক্ত কর না চাপিয়ে জিডিপির অনুপাতে রাজস্ব বৃদ্ধি করা। |
পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি সিলেট অঞ্চলের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলোর কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনগুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে সিলেটের বন্যা সমস্যা সমাধান এবং হাওর এলাকার কৃষকদের সুরক্ষায় বাঁধ নির্মাণে কোনো গাফিলতি সহ্য করা হবে না। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, বিগত সরকারের আমলের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি বর্তমান প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে প্রতিটি সরকারি প্রকল্পকে দুর্নীতিমুক্তভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানো এবং দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির ওপর জোর দেন। তিনি জানান, সৌদি আরব এবং মালয়েশিয়ার মতো বড় শ্রমবাজারগুলোতে যেসব জটিলতা ছিল, তা নিরসনে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, সিলেট সার্কিট হাউজের এই সভাটি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের একটি অঙ্গীকার হিসেবে দেখা দিচ্ছে।