খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
চলতি বছরের জুন মাসের প্রথম ১০ দিনে দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে দেশে এসেছে ১২০ কোটি ৩১ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২ কোটি ৩ লাখ ডলার। এই প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ও সামষ্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন।
শুক্রবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, গত বছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল ৯৫ কোটি ৬১ লাখ ৯০ হাজার ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছর উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধিকে নির্দেশ করে। তিনি আরও জানান, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১০ জুন পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৯৫ কোটি ৯৯ লাখ ৫০ হাজার ডলারে, যা গত বছরের তুলনায় ১৯ দশমিক ৩১ শতাংশ বেশি।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রতি প্রবাসীদের আগ্রহ বৃদ্ধি, বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকা এবং প্রণোদনা ব্যবস্থার কারণে এই প্রবৃদ্ধি হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকিং চ্যানেলের ডিজিটালাইজেশনও রেমিট্যান্স প্রবাহকে আরও সহজ করেছে।
গত কয়েক মাসের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রেমিট্যান্স প্রবাহে ওঠানামা থাকলেও সামগ্রিক প্রবণতা ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে মার্চ মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ রেকর্ড করা হয়, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসের সর্বোচ্চ অর্জন।
নিচে সাম্প্রতিক মাসগুলোর রেমিট্যান্স প্রবাহের একটি সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—
| মাস | রেমিট্যান্স (কোটি মার্কিন ডলার) |
|---|---|
| জুন (১–১০ দিন) | ১২০.৩১ |
| মে | ৩৪২.৫০ |
| এপ্রিল | ৩১২.৭৩ |
| মার্চ | ৩৭৫.৫০ |
| ফেব্রুয়ারি | ৩০২.০৭ |
| জানুয়ারি | ৩১৭.০৯ |
| ডিসেম্বর | ৩২২.৬৭ |
| নভেম্বর | ২৮৮.৯৫ |
| অক্টোবর | ২৫৬.৩৪ |
| সেপ্টেম্বর | ২৬৮.৫৮ |
| আগস্ট | ২৪২.১৮ |
| জুলাই | ২৪৭.৮০ |
এই তথ্য অনুযায়ী দেখা যায়, চলতি অর্থবছরে মাসভিত্তিক রেমিট্যান্স প্রবাহ সাধারণত ২৪০ থেকে ৩৭৫ কোটি ডলারের মধ্যে ওঠানামা করেছে। বিশেষ করে মার্চ ও মে মাসে উল্লেখযোগ্য উচ্চ প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় বড় সহায়তা দিয়েছে।
অন্যদিকে, সদ্য সমাপ্ত ২০২৪–২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা মোট ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা দেশের ইতিহাসে কোনো অর্থবছরের সর্বোচ্চ রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ভবিষ্যতে বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, জুনের প্রথম দশ দিনের শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে এবং প্রবাসী আয়ের উপর দেশের নির্ভরতা আরও সুসংহত করছে।