খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে আষাঢ় ১৪৩২ | ৯ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের অগ্রাধিকার বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুরুতর আহত ব্যক্তিদের জন্য ঢাকায় ফ্ল্যাট দেওয়ার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় দেড় হাজারের বেশি ফ্ল্যাট তৈরি করা হবে, যার মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা। এই অর্থ সরকার কোষাগার থেকে বরাদ্দ করবে।
ফ্ল্যাটগুলো মিরপুর ৯ নম্বরে সরকারি জমিতে নির্মাণ করা হবে, এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন করবে। ফ্ল্যাটগুলোর নকশা ইতিমধ্যেই তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন হবে ১ হাজার ২৫০ বর্গফুট। ফ্ল্যাটে দুটি শয়নকক্ষ (বেডরুম), একটি ড্রয়িংরুম (বসার ঘর), একটি লিভিং রুম (বিশ্রাম ঘর), খাবার কক্ষ, রান্নাঘর এবং তিনটি শৌচাগার থাকবে। বিশেষভাবে আহত ব্যক্তির জন্য একটি কক্ষ থাকবে, যেখানে তাদের জন্য সব ধরনের সুবিধা উপলব্ধ থাকবে। এই কক্ষে থাকবেন যাঁরা পঙ্গু বা দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।
এর আগে, শহীদ পরিবারদের জন্য বিনা মূল্যে ফ্ল্যাট দেওয়ার জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় আলাদা একটি প্রকল্প নিয়েছিল। শহীদ পরিবারের জন্য মোট ৮০৪টি ফ্ল্যাট তৈরির জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৬২ কোটি টাকা। এ ফ্ল্যাটগুলোও মিরপুর ১৪ নম্বরে নির্মাণ করা হবে এবং প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন হবে ১ হাজার ৩৫৫ বর্গফুট।
ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পের বিষয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. নুরুল বাসির বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে অবকাঠামো নির্মাণ। ভবন নির্মাণে চার বছর সময় লাগবে। ফ্ল্যাট কারা পাবেন, তা পরবর্তীতে নির্ধারণ করা হবে।’
তিনি আরও জানান, ফ্ল্যাট বিতরণের জন্য একটি তালিকা প্রস্তুত করবে জুলাই অধিদপ্তর, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। আহতদের শারীরিক অবস্থা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী ফ্ল্যাট বিতরণ করা হবে।
গত সোমবার (৭ জুলাই) পরিকল্পনা কমিশনে এই প্রকল্পের মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, চলতি মাসে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের জন্য আলাদা দুটি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদিত হবে।
অন্যদিকে, মিরপুর ৯ নম্বরে যেসব জমিতে ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে, সেগুলো কিছুটা নিচু। তাই, জায়গাটি ভরাট করতে বিপুল পরিমাণ মাটি প্রয়োজন হবে, এবং ভূমি উন্নয়নে প্রায় ১২ কোটি টাকা খরচ হবে।
সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনে “অতি গুরুতর আহত” হিসেবে ৪৯৩ জন এবং “গুরুতর আহত” হিসেবে ৯০৮ জনকে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও, এ আন্দোলনে শহীদ হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৮৩৪ জন। শহীদ এবং আহত পরিবারের জন্য এককালীন টাকা এবং মাসিক ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।
ফ্ল্যাট নির্মাণে বিশেষভাবে যাদের অঙ্গহানি হয়েছে, তাঁদের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ মিরপুর হাউজিং এস্টেটে মোট ১৫টি ভবন নির্মাণ করবে।
খবরওয়ালা/আরডি