খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: 29শে আশ্বিন ১৪৩২ | ১৪ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ভুয়া তথ্য দিয়ে ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে সরকারি তালিকায় নাম দিয়েছেন— এমন অভিযোগ যাচাইয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে জুলাই ফাউন্ডেশনে স্ত্রীসহ জুলাই যোদ্ধা বুলবুল শিকদারকে মারধরের অভিযোগে ওই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ১৩ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে বুলবুল শিকদারের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। তিনি মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার সিকদারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ১১ নভেম্বরের মধ্যে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. জাকির হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার আসামিরা হলেন জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভেরিফিকেশন অফিসার ইফতেখার হোসেন, কর্মকর্তা সাগর, মেহেদী হাসান প্রিন্স, আফজালুর রহমান সায়েম, সাইদুর রহমান শাহিদ, ফাতেমা আফরিন পায়েল, রেজা তানভীর, আলিফ, জাহিদ, এক্সিকিউটিভ মেম্বার সাবরিনা আফরোজ শ্রাবন্তী, সোনিয়া আক্তার লুবনা, শামীম রেজা খান ও রাকিন।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে সাবিনা ইয়াসমিনের স্বামী ও ছেলে মোটরসাইকেলে চিটাগাং রোডের মাদানী নগর মাদরাসার সামনে গেলে পুলিশ ও সরকারদলীয় লোকেরা আন্দোলনরত জনতার ওপর গুলি ও হামলা চালায়। এতে তার স্বামী ও ছেলে গুরুতর আহত হন— স্বামীর হাঁটুর নিচে মারাত্মক আঘাত লাগে এবং ছেলের পা ভেঙে যায়। ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের পতনের পর জুলাইয়ের বর্ষাবিপ্লবীদের আত্মত্যাগের মূল্যায়নের জন্য জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন গঠিত হয়।
সাবিনা ইয়াসমিন গত ২০ মার্চ সকাল ১১টার দিকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল সংলগ্ন কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউয়ে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’-এর অফিসে গেলে ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা ইফতেখার হোসেন ও অন্যান্য আসামিরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তারা কিভাবে আহত হন জানতে চান। তারা আহত হওয়ার ঘটনা বর্ণনা করেন। তাদের জানানো হয়, তাদের ছেলে সেখান থেকে এক লাখ টাকার চেক নিয়ে গেছে।
বুলবুল জুলাই যোদ্ধা গেজেট নম্বর এবং মেডিক্যল কেস আইডি দেখালে ইফতেখার সাগর ও মেহেদীকে ডেকে আনে। তারা সাবিনা ইয়াসমিনকে বসিয়ে রেখে বুলবুলকে একটি আলাদা কক্ষে নিয়ে গিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে শারীরিক নির্যাতন করা হয়, নাইলনের পাইপ দিয়ে পেটানো হয় এবং তাকেও ভয়ভীতি দেখান ও মারধর করা হয়।
সাবিনার অভিযোগ, আসামিরা তাদের ‘ভুয়া জুলাই যোদ্ধা’ বলে হুমকি দেয়, জোরপূর্বক মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করে এবং তার ব্যাগ ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। নির্যাতনের ফলে তার স্বামী মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকেন। পরবর্তীতে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাদী হয়ে আদালতে এই মামলা দায়ের করেন।
উল্লেখ্য, বেশ কিছুদিন ধরে জুলাই ফাউন্ডেশনে যাঁরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাঁরা বিভিন্নভাবে অভিযোগ করছেন। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে মানববন্ধন করা হয়েছে।
খবরওয়ালা/এসআর