খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ‘টিকিট ও হোটেল যুদ্ধ’ শুরু হয়ে গেছে। গত বছরের ৫ ডিসেম্বরের ড্র ঘোষণা হতেই বিশ্বের কোটি সমর্থকেরা মাঠে বসে খেলা দেখার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। তবে এই প্রস্তুতি এখন একদমই সহজ নয়। টিকিটের দামের আকাশছোঁয়া ওঠা এবং হোটেলের অস্বাভাবিক ভাড়া একাধিক সমর্থককে মাথা ঘামাতে বাধ্য করছে।
ফিফার তথ্যানুসারে, এবারের বিশ্বকাপে টিকিট লটারি প্রক্রিয়ায় আবেদন জমা পড়েছে প্রায় ৫০ কোটি। লটারি থেকে কার ভাগ্যে টিকিট পড়বে, তা ইমেইলের মাধ্যমে জানানো হবে ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আগেই সতর্ক করে দিয়েছেন, অনেক সমর্থক টিকিট পেয়ে তা রিসেল করবে, যার ফলে সাধারণ সমর্থকের জন্য টিকিট ক্রয় করা আরও কঠিন হবে।
টিকিট ও হোটেল খরচের সংক্ষিপ্ত তুলনা:
| খরচের ধরন | সাধারণ মূল্য | বিশ্বকাপ সময়ে মূল্য | বৃদ্ধি (%) |
|---|---|---|---|
| নিউ জার্সির হোটেল (প্রতি রাত) | 153 ডলার | 4,510 ডলার | 2,848% |
| শর্ট হিলসের ৭ বেডরুম বাড়ি (৩ রাত) | 5,000 ডলার | 35,000 ডলার | 600% |
| লস অ্যাঞ্জেলেস স্বল্পমেয়াদি ভাড়া | 1,200 ডলার | 2,652 ডলার | 121% |
| পার্কিং (লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়াম) | 50–75 ডলার | 250–300 ডলার | 400%+ |
এয়ারবিএনবি, বুকিং ডটকমের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর উপর নির্ভরশীল সমর্থকরা এখন বৈঠকির চাপে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের কাছের একটি হোটেল প্রতি রাতের জন্য ৪,৫১০ ডলারে রেট ঘোষণা করেছে, যা সাধারণ সময়ের তুলনায় ২,৮৪৮ শতাংশ বেশি। শর্ট হিলসে সাত বেডরুমের বাড়ি তিন রাতের জন্য ৩৫,০০০ ডলারে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। এমনকি লস অ্যাঞ্জেলেসের স্বল্পমেয়াদি ভাড়া ১২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এয়ারবিএনবির তথ্য অনুযায়ী, ড্র হওয়ার পর হোটেল খোঁজার চাহিদা বেড়েছে ১৬০ শতাংশ।
নিজের গাড়ি নিয়ে খেলা দেখতে যাওয়াও এবার ব্যয়বহুল অভিজ্ঞতা। লস অ্যাঞ্জেলেসে ফিফার অফিসিয়াল পার্কিং স্পটের দাম ২৫০–৩০০ ডলার, যা অনেক টিকিটের চেয়ে বেশি। কিন্তু পার্কিং স্পট থেকে স্টেডিয়ামে যেতে প্রায় এক মাইল হেঁটে যাওয়া বাধ্যতামূলক।
বেশ কিছু হোটেল ও এয়ারবিএনবি মালিক আগের বুকিং বাতিল করে দিচ্ছেন এবং একই বাসা অনেক বেশি দামে পুনরায় ভাড়া দিচ্ছেন। উদাহরণস্বরূপ, ক্রোয়েশীয় সমর্থক অ্যান্থনি জোরিচের ৩২৭ ডলারের বুকিং বাতিল হয়ে ৯১৭ ডলারে পুনরায় তালিকাভুক্ত হয়েছে। এয়ারবিএনবি এই ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে, তবে ভোগান্তি কমছে না।
বিশ্বকাপ ২০২৬ শুধু খেলা নয়, এটি অর্থনৈতিক দিক থেকেও ‘ওয়ার্ল্ড কাপ ইফেক্ট’ প্রদর্শন করবে। এয়ারবিএনবি একাই এই আসরে প্রায় ১২০ কোটি ডলারের লেনদেন আশা করছে। ১৯ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত গোটা বিশ্ব এই প্রভাবকে প্রত্যক্ষ করবে।