খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ৫ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ফেনীতে জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে শহীদ ওয়াকিল উদ্দিন শিহাবের কবরে দোয়া-মোনাজাতকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের উত্তর কাশিমপুরে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে, গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে শহীদ শিহাবের কবরে শ্রদ্ধা জানাতে একটি কর্মসূচির আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, স্বাস্থ্য বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া-মোনাজাত করার কথা আগে থেকেই জানানো হয় স্থানীয় মসজিদের ইমামকে।
তবে দোয়ার পূর্ব মুহূর্তে উপস্থিত ফেনী জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল হান্নানকে মোনাজাত পরিচালনার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ঘোষণা করেন পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির। এতে আপত্তি জানান ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরনবী মেম্বার। এ নিয়ে দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হট্টগোল শুরু হয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।
বিএনপি নেতা নুরনবী মেম্বার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘শহীদ শিহাব আমার আত্মীয়। আমি ওই এলাকার পাঁচবারের নির্বাচিত মেম্বার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাকে দোয়া পরিচালনার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছিল। আমি স্থানীয় মসজিদের ইমামকে বলে রেখেছিলাম। পূর্ব নির্ধারিত ইমামকে বাদ দিয়ে হঠাৎ ইউনিয়ন জামায়াত আমির জেলা জামায়াতের আমিরকে দিয়ে দোয়া করানোয় আমি আপত্তি জানাই। এতে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে প্রশাসনের অনুরোধে আমরা সরে আসি।’
নুরনবী মেম্বার আরও বলেন, ‘জামায়াতের আমির আমার জেল পার্টনার। আমি তাঁকে সম্মান করি। কিন্তু ইউনিয়ন জামায়াতের আমির জাহাঙ্গীর আলম আওয়ামী লীগের দোসর। সে উদ্দেশ্যমূলকভাবে জামায়াতের আমিরকে দিয়ে দোয়া পরিচালনা করিয়ে হট্টগোল সৃষ্টি করেছেন।’
এ বিষয়ে ফেনী জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আবদুল হান্নান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ওখানে কিছু হয়নি, কোনো সমস্যা হয়নি। দোয়া-মোনাজাত আমি করেছি। বিএনপির এক নেতা একটু (সিনক্রিয়েট) বাড়াবাড়ি করছিলেন, আমি থামিয়ে দিয়েছি। মূলত ইউনিয়ন আমির বলেছিলেন, জেলা আমির দোয়া করবেন। এটাকে তিনি দলীয়করণের বিষয় মনে করেছিলেন। পরে আমি বুঝিয়ে বলেছি এবং দোয়াও করেছি। স্থানীয় ইমাম সাহেব আমাকে দোয়ার জন্য বলেছেন।’
জেলা জামায়াতের আমির আরও বলেন, ‘ফেনীতে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সুসম্পর্ক রয়েছে। আমরাও ভালো আছি, তারাও ভালো আছেন।’
খবরওয়ালা/এসআই