খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
ঝালকাঠি শহরের সুতালড়ি এলাকায় মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সন্ধ্যায় এক ভয়ঙ্কর ঘটনায় রাকিব নামের এক ব্যক্তি ফেসবুক লাইভে এসে নিজে বিষপান করেন এবং একই সঙ্গে দুই শিশু পুত্র নিবীড় (৬) ও আবির (৪)–কেও বিষ খাইয়ে আহত করেন। তিনি লাইভে এমন ভাষ্য দেন যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও গভীর দুঃখের সৃষ্টি করেছে।
রাকিব লাইভে ‘সাগর’ নামে এক ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “সাগর, তুই নিজের স্বার্থের জন্য সব করতে পারলি। নিজে প্রতিষ্ঠিত হইলি। আমাদের তুই কোনো খোঁজ রাখনি। দুঃখে কষ্টে আমি চলে গেলাম। শান্তির পৃথিবীতে তুই একাই থাক, শান্তি করে দিলাম। আমরা সবাই চলে গেলাম।”
প্রতিবেশী ও রাকিবের চাচা জুয়েল জানান, মাগরিবের আগ মুহূর্তে ঘর থেকে চিৎকার শুনে তারা দৌড়ে যান। ঘরে পৌঁছে দেখা যায় রাকিব ও তার দুই ছেলে ছটফট করছে এবং বিষের গন্ধ ছড়িয়ে আছে। দ্রুত তাদের ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। বর্তমানে তিনজনই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রাকিবের স্ত্রী ওই সময় বাসায় ছিলেন না। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, লাইভে উল্লেখিত ‘সাগর’ নামে কোনো ঘনিষ্ঠ পরিচিতি রাকিবের সঙ্গে তাদের দেখা হয়নি। রাকিবের সঙ্গে সাগরের কোনো সরাসরি সম্পর্ক স্থানীয়দের কাছে অজানা।
নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আলম বলেন, “ঘটনার বিষয়টি আমাদের জানা গেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেব।”
স্থানীয়রা দাবি করেছেন, সাগর নামের ব্যক্তির পরিচয় ও ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা জরুরি। তারা বলছেন, পরিবারের মানসিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
| নাম | বয়স | সম্পর্ক | চিকিৎসা অবস্থান |
|---|---|---|---|
| রাকিব | ৩৫ | বাবা | বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন |
| নিবীড় | ৬ | ছেলে | বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন |
| আবির | ৪ | ছেলে | বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন |
এ ঘটনায় ঝালকাঠি শহরজুড়ে শোক ও বিস্ময়ের ছাপ পড়েছে। সামাজিক ও মানসিক সমর্থনের পাশাপাশি দ্রুত তদন্ত শুরু করা স্থানীয়দের কাছে দাবী হিসেবে উঠে এসেছে। প্রশাসন ঘটনার সত্যতা ও পেছনের কারণ উদঘাটনের জন্য সবদিক থেকে অনুসন্ধান চালাচ্ছে।
এই ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয় সমাজের মানসিক ক্ষতি যে গভীর তা অনুধাবন করা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা এবং মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ কেন্দ্রের ভূমিকা অপরিহার্য।