খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে মেহেদী হাসান জিহাদ (২৩) নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ৩০ মে (শনিবার) সকালে উপজেলার যোগিহাটি মধ্যপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত মেহেদী হাসান জিহাদ স্থানীয় বাসিন্দা রঞ্জু মিয়ার ছেলে। তিনি ঢাকার সিটি ইউনিভার্সিটির স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত মেহেদী হাসান জিহাদ বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে তীব্র মানসিক চাপে ভুগছিলেন। এই মানসিক অস্থিরতা ও ব্যক্তিগত সমস্যার জেরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও মাঝেমধ্যে তার মনমালিন্য ও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতো।
দৈনন্দিন নিয়মানুযায়ী, গত ২৯ মে (শুক্রবার) রাতে পরিবারের সবার সাথে রাতের খাবার শেষ করে তিনি নিজ কক্ষে ঘুমাতে যান। পরদিন ৩০ মে (শনিবার) সকালে দীর্ঘ সময় ধরে তার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির সিঁড়িকোটায় গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান স্বজনরা। পরবর্তীতে স্থানীয় থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
ঘটনার প্রাথমিক তথ্যাদি নিচে টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| নিহতের নাম | মেহেদী হাসান জিহাদ |
| বয়স | ২৩ বছর |
| পিতার নাম | রঞ্জু মিয়া |
| স্থায়ী ঠিকানা | যোগিহাটি মধ্যপাড়া, ঘাটাইল, টাঙ্গাইল |
| শিক্ষা প্রতিষ্ঠান | সিটি ইউনিভার্সিটি, ঢাকা |
| শিক্ষাগত যোগ্যতা | স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষ |
| মরদেহ উদ্ধারের সময় | ৩০ মে, শনিবার সকাল |
| প্রাথমিক সম্ভাব্য কারণ | ব্যক্তিগত মানসিক চাপ ও পারিবারিক ভুল বোঝাবুঝি |
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ তৎপরতা শুরু করেছে। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোকছেদুর রহমান গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীর মরদেহটি উদ্ধার করে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করে এখনো কিছু বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরসহ আনুষঙ্গিক প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।