খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ জুন ২০২৫
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিরুদ্ধে ‘পরিকল্পিত অপপ্রচারের’ অভিযোগ এনে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। লন্ডনভিত্তিক আইনি প্রতিষ্ঠান স্টেফেনসন হারউড এলএলপি-এর মাধ্যমে পাঠানো এই নোটিশে টিউলিপ দাবি করেছেন, তার সুনাম ক্ষুণ্ন এবং ব্রিটিশ রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে তাদের পক্ষ থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার চালানো হয়েছে।
নোটিশ অনুযায়ী, গত ১৮ মার্চ ও ১৫ এপ্রিল দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের এবং ৪ জুন প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসকে চিঠি পাঠানো হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। এতে বলা হয়, টিউলিপের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোর পেছনে কোনও প্রমাণ নেই এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে সেগুলো তুলে ধরা হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ড. ইউনূসের লন্ডন সফরের সময় টিউলিপ তার সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। স্টেফেনসন হারউডের মতে, ইউনূস ইচ্ছাকৃতভাবে সাক্ষাৎ এড়িয়ে গেছেন যাতে টিউলিপের সঙ্গে মিথ্যা অভিযোগ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা না করতে হয়। এতে আরও বলা হয়, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার আগে যথাযথ তথ্য যাচাই করা প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব ছিল।
টিউলিপের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা ও দুদকের উচিত এখনই এই ‘মিথ্যা প্রচারণা’ থেকে সরে আসা এবং চলমান তদন্ত বন্ধ করা। নোটিশে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ৩০ জুনের মধ্যে পূর্ববর্তী ও বর্তমান চিঠিগুলোর যথাযথ উত্তর না পেলে টিউলিপ বিষয়টিকে নিষ্পন্ন বলে ধরে নেবেন।
এ বিষয়ে স্কাই নিউজকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম বলেছেন, “বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ব্রিটিশ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের কোনও ইচ্ছা বা সুযোগ নেই। দুর্নীতি দমন কমিশন গুজব নয়, বরং প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে।”
তিনি আরও জানান, আদালত টিউলিপকে তলব করেছেন এবং ওয়ারেন্ট জারি হয়েছে। এ অবস্থায় আদালতেই তার অবস্থান ব্যাখ্যা করা উচিত। তিনি যদি আইনগত সহায়তা চান, তবে বাংলাদেশ সরকার তা প্রদান করবে। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে তলব উপেক্ষা করলে, মামলার কার্যক্রম অনুপস্থিতিতেই চলতে পারে।
খবরওয়ালা/এমএজেড