খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে আরও কঠোর অবস্থান নিলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, ইসরাইল তার নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় ‘যা কিছু প্রয়োজন, সবকিছুই’ করতে প্রস্তুত। ইসরাইলের দাবি অনুযায়ী, তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন ভূখণ্ড জর্ডান নদী থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত, এবং এই সমগ্র এলাকাতেই নিরাপত্তা ও শাসনক্ষমতা তাদের হাতেই থাকবে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) একাধিক প্রশ্নের জবাবে দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তার বা তার সরকারের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসরাইল কখনোই স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অনুমোদন দেবে না। ইসরাইলি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে এমন দাবি তোলা হয়েছে যে আমি গাজায় ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেব—এটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এমন কিছু অতীতেও ঘটেনি, ভবিষ্যতেও ঘটবে না।”
নেতানিয়াহুর বক্তব্যে ‘জর্ডান নদী থেকে সমুদ্র পর্যন্ত’ বাক্যাংশটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান, পশ্চিম তীর ও গাজাসহ পুরো ভূখণ্ডে ইসরাইলের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে। তার ভাষায়, এটি কোনো সাময়িক সিদ্ধান্ত নয়; বরং ইসরাইলের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কৌশলের অংশ।
গাজা প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, সেখানে থাকা হামাস যোদ্ধাদের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণই ইসরাইলের প্রধান লক্ষ্য। তিনি জানান, হামাসের অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংস, ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং সামরিক কাঠামো ভেঙে ফেলাই হবে ইসরাইলি অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
গাজার পুনর্গঠন নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, যতক্ষণ না গাজা পুরোপুরি সামরিকভাবে মুক্ত হচ্ছে, ততক্ষণ সেখানে কোনো পুনর্গঠন কার্যক্রমের অনুমতি দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “আমি শুনছি যে সামরিকমুক্তকরণের আগেই পুনর্গঠনের কথা বলা হচ্ছে—এটা হবে না। নিরাপত্তাই সবার আগে।”
এ ছাড়া গাজায় কোনো বিদেশি বা আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনাও নাকচ করে দেন নেতানিয়াহু। তুরস্ক বা কাতারের সেনা পাঠানো কিংবা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী গঠনের ধারণাকে তিনি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। তার ভাষায়, গাজা ও পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ একমাত্র ইসরাইলই বজায় রাখবে।
বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য শুধু গাজা নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক কূটনীতির অঙ্গনে ফিলিস্তিন প্রশ্নে ইসরাইলের অবস্থান যে আরও কঠোর হচ্ছে, তারও স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে।
নেতানিয়াহুর ঘোষিত অবস্থানগুলো সংক্ষেপে নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | নেতানিয়াহুর অবস্থান |
|---|---|
| ফিলিস্তিন রাষ্ট্র | সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান |
| ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ | জর্ডান নদী থেকে ভূমধ্যসাগর |
| গাজায় লক্ষ্য | হামাস নিরস্ত্রীকরণ |
| পুনর্গঠন | সামরিকমুক্তকরণের আগে নয় |
| বিদেশি সেনা | মোতায়েন হবে না |
এই অবস্থানের মধ্য দিয়ে ইসরাইলি সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে, নিরাপত্তা প্রশ্নে তারা কোনো আপস করতে প্রস্তুত নয়, আর গাজার ভবিষ্যৎও নির্ধারিত হবে সেই কড়াকড়ি নীতির আলোকে।