খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 26শে কার্তিক ১৪৩২ | ১০ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ডোনাল্ড ট্রাম্পবিরোধী জনমত আগের চেয়ে আরও জোরালো হয়েছে। এত দিন বিষয়টি বিভিন্ন জরিপে দেখা গেলেও গত মঙ্গলবার নিউইয়র্কের মেয়র এবং নিউ জার্সি ও ভার্জিনিয়ার গভর্নর নির্বাচনের ফল সেই চিত্রকেই স্পষ্ট করেছে। বিষয়টি রিপাবলিকান পার্টির নেতা ও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও বুঝতে পেরেছেন। তিনি এখন এসব নির্বাচনে নিজের ভূমিকা তুচ্ছ করে দেখানোর চেষ্টা করছেন।
ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীদের কাছে তিনটি রাজ্যে রিপাবলিকানদের হার এখন দলের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি নির্বাচনগুলো দেখেছি, তবে তাতে আমার বিশেষ কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।’ এমনকি তিনি নির্বাচনে প্রার্থীদের সমর্থন করার কথাও অস্বীকার করেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমি ভার্জিনিয়ার গভর্নর প্রার্থীকে সমর্থন করিনি, নিউ জার্সির প্রার্থীকেও তেমন সহায়তা করিনি। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুমো সম্পর্কে আমাকে প্রশ্ন করা হলে আমি বলেছিলাম—আপনি কি একজন “ঠগ” চান, নাকি একজন “বামপন্থী”?’
যদিও ট্রাম্প নিজেকে এসব নির্বাচনের ফল থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছেন, বাস্তবে জনগণ এবার সরাসরি তাঁর বিরুদ্ধেই ভোট দিয়েছেন। বলা যায়, ভোটের ব্যালটে ট্রাম্পের নাম না থাকলেও এত স্পষ্টভাবে তাঁর বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার নজির আগে দেখা যায়নি।
এ সপ্তাহে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—ট্রাম্পবিরোধী ভোট আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে এবং ট্রাম্পপন্থী ভোট স্পষ্টভাবে কমেছে। নির্বাচনের আগের দিন সিএনএনের করা এক জরিপে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে উঠে আসে। সেখানে দেখা যায়, নিবন্ধিত ভোটারদের ৪১ শতাংশ কংগ্রেস নির্বাচনে ট্রাম্পের বিরোধিতা জানাতে ভোট দেওয়ার কথা বলেন। অপরদিকে মাত্র ২১ শতাংশ ভোটার ট্রাম্পকে সমর্থনের কথা জানান। অর্থাৎ ট্রাম্পবিরোধী ভোট প্রায় দ্বিগুণ। এই ব্যবধান যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অস্বাভাবিক বলে মনে করা হচ্ছে। সিএনএনের জরিপ অনুযায়ী, গত ২০ বছরে এত বড় পার্থক্য দেখা যায়নি।
২০০৬ সালে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার কথা বলেছিলেন ৩৬ শতাংশ ভোটার, আর পক্ষে ছিলেন মাত্র ১৫ শতাংশ। এমনকি ২০১৮ সালের ট্রাম্পের প্রথম মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেও ব্যবধান এতটা বড় ছিল না—তখন ট্রাম্পবিরোধী ছিলেন ৩৮ শতাংশ, ট্রাম্পপন্থী ২৫ শতাংশ।
এত দিন ট্রাম্পবিরোধী ভোট বৃদ্ধির কথা কেবল জরিপেই দেখা গিয়েছিল, কিন্তু গত মঙ্গলবারের নির্বাচনের ফল তা প্রমাণ করেছে। ভার্জিনিয়া ও নিউ জার্সির বুথফেরত জরিপে দেখা যায়, ট্রাম্পবিরোধী ভোটের ব্যবধান আরও বেড়েছে।
২০১৭ সালে ভার্জিনিয়ায় ট্রাম্পবিরোধী ও ট্রাম্পপন্থী ভোটের ব্যবধান ছিল ১৭ পয়েন্ট (৩৪%-১৭%), এবার তা বেড়ে ২২ পয়েন্টে (৩৮%-১৬%) দাঁড়িয়েছে। নিউ জার্সিতে ব্যবধান আরও বড় হয়েছে—২০১৭ সালে যেখানে ব্যবধান ছিল ১৭ পয়েন্ট (২৮%-১১%), এবার তা বেড়ে ২৮ পয়েন্টে (৪১%-১৩%) পৌঁছেছে।
‘নো কিংস’ আন্দোলন
ট্রাম্পবিরোধী ভোট বেড়ে যাওয়ার পেছনে দুটি প্রধান কারণ উঠে এসেছে। প্রথমটি হলো ‘নো কিংস’ আন্দোলন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ও কর্তৃত্ববাদী আচরণের প্রতিবাদে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। এই আন্দোলনের সমাবেশগুলো ছিল সুসংগঠিত ও পরিকল্পিত। এসব ট্রাম্পবিরোধী আন্দোলন এখনও ততটাই সক্রিয় ও দৃঢ়। আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীরা হয়তো ডেমোক্রেটিক পার্টিতে পুরো আস্থা রাখছেন না, কিন্তু তাঁরা রাজনীতি থেকে সরে যাননি—বরং ভোট দেওয়ার জন্য আগের চেয়ে বেশি প্রস্তুত।
দ্বিতীয় কারণ হলো, ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাব থাকা সত্ত্বেও তাঁর মূল সমর্থক শ্রেণি এখন অনেকটাই অনুৎসাহী হয়ে পড়েছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন