খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে আষাঢ় ১৪৩২ | ৬ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা ও মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত দুইদলীয় রাজনৈতিক কাঠামোর বাইরে একটি নতুন বিকল্প হিসেবে “আমেরিকা পার্টি” নামে রাজনৈতিক দল গঠন করেছেন তিনি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, রোববার (৬ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মাস্কের এই সিদ্ধান্তের কথা উঠে এসেছে। এর আগেই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। সেই উত্তেজনার রেশ কাটতে না কাটতেই দল গঠনের ঘোষণা এলো।
শনিবার(৫জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি পোস্টে ইলন মাস্ক বলেন, “আমরা এমন এক ব্যবস্থায় বাস করছি, যেখানে একদলীয় শাসন, অপচয় এবং দুর্নীতির মাধ্যমে দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে ‘আমেরিকা পার্টি’ গঠন করা হয়েছে, যার লক্ষ্য হলো জনগণের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা।
তবে এখনও স্পষ্ট নয়, ‘আমেরিকা পার্টি’ আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হয়েছে কি না। মাস্ক এখন পর্যন্ত দলের কাঠামো, নেতৃত্ব কিংবা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
বিবিসির তথ্যমতে, ট্রাম্প প্রশাসন থেকে ইলন মাস্কের সরে দাঁড়ানো এবং বাজেট পরিকল্পনার কড়া সমালোচনার পরই তিনি নতুন দল গঠনের আভাস দেন। ট্রাম্পের একটি বিতর্কিত বাজেট আইন নিয়ে মাস্ক ক্ষোভ প্রকাশ করেন, যেটিকে তিনি ‘দেশকে দেউলিয়া করার পরিকল্পনা’ বলে অভিহিত করেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি এক্স-এ চালানো একটি জনমত জরিপের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে দেখা যায়, প্রতি তিনজনের মধ্যে দুইজন নতুন রাজনৈতিক দল চায়। মাস্ক বলেন, “এই ফলাফলকে সম্মান জানিয়ে নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ‘আমেরিকা পার্টি’ পথচলা শুরু করল।”
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ইলন মাস্ক ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম বড় দানদাতা। তিনি তখন প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচন প্রচারে সহায়তা করেছিলেন। পরবর্তীতে তাকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি’ বা ডিওজিইর দায়িত্ব দেওয়া হয়, যার কাজ ছিল সরকারি বাজেট ব্যয়ে অনিয়ম শনাক্ত করা।
তবে গত মে মাসে মাস্ক সে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান এবং ট্রাম্পের “বিগ বিউটিফুল বিল” নামে পরিচিত বাজেট আইনের তীব্র সমালোচনা করেন। সেই আইনে বিশাল অংকের ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি ও কর ছাড় থাকায় আগামী এক দশকে এটি প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলার ঘাটতি সৃষ্টি করতে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
ইলন মাস্কের এই নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখন সময়ই বলে দেবে।
খবরওয়ালা/টিএস