খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ব্যবহৃত ব্যালট পেপার মুদ্রণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কোনো প্রকার টেন্ডার ছাড়াই নীলক্ষেত গাউসুল আজম মার্কেটের একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান থেকে অসুরক্ষিত পরিবেশে এই ব্যালটগুলো ছাপানো হয়। ছাপানো ব্যালটের সংখ্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যে প্রচুর অসঙ্গতি লক্ষ্য করা গেছে। গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে এই সকল তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
জানা গেছে, গাউসুল আজম মার্কেটের জালাল প্রেসে ব্যালট পেপার ছাপানোর কাজ হয়। এই ছাপাখানার মালিক জানিয়েছেন যে তিনি ৪৮ হাজার পাতা ব্যালট মুদ্রণ করেছেন, যেখানে প্রতিটি পাতায় দুটি করে ব্যালট ছিল। অর্থাৎ, মোট ৯৬ হাজার ব্যালট ছাপানো হয়েছিল। সেই ব্যালটগুলো একই মার্কেটের মক্কা পেপার হাউজ নামে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে কাটা হয়।
তারা বলছেন, সেখানে প্রায় ৮৮ হাজার ব্যালট কাটা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মী জানান, মধ্যরাতে ব্যালটগুলো কাটার কাজ হয়েছিল। পরদিন সকাল ৯টায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এই ব্যালটগুলো নিয়ে যায়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ব্যালট ছাপানোর কাজের জন্য একমাত্র দরদাতা প্রতিষ্ঠান ছিল আনজা কর্পোরেশন লিমিটেড।
তবে ওয়ার্ক অর্ডার ছাড়াই এমআরএম কম্পানি লিমিটেড নামের একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান ব্যালট ছাপানোর কাজটি পায়। অনুসন্ধানে জানা যায়, এই নামে কোনো সংস্থার নিবন্ধন নেই। ব্যালট ছাপানোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ফেরদৌস ওয়াহিদ নামে একজন ব্যক্তি। তিনি এমআরএম ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের কর্মী। এই প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানায় গিয়ে দেখা যায় সেখানে এমএম ইঞ্জিনিয়ারিং নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যানার ঝুলছে।
জানা যায়, এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের (এমআরএম কম্পানি, এমআরএম ইঞ্জিনিয়ারিং, এমএম ইঞ্জিয়ারিং) মালিক একই ব্যক্তি, যার নাম আমিনুর রহমান মিয়া ওরফে রাসেল। ওয়ার্ক অর্ডার ছাড়াই তিনি ব্যালট ছাপার কাজ করেছেন বলে স্বীকার করেছেন।
এদিকে, ব্যালটের সংখ্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্যে বিশাল পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। নীলক্ষেত গাউসুল আজম মার্কেটের জালাল প্রেস দাবি করে যে ডাকসুর জন্য তারা ৯৬ হাজার ব্যালট ছেপেছে। সেই ব্যালট কাটা হয় একই মার্কেটের আরেক প্রতিষ্ঠান মক্কা পেপার হাউসে। তাদের দাবি, তারা ৮৮ হাজার ব্যালট কেটেছেন। অন্যদিকে, এমআরএম কম্পানির দাবি, ব্যালট ছাপানো হয়েছে ৮৬ হাজার ২৪৩টি। অথচ আনজা কর্পোরেশন লিমিটেড বলেছে, তারা ১ লাখ ৫৩ হাজার ব্যালট মুদ্রণ করেছে।
এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।’
নীলক্ষেতে ব্যালট ছাপানোর বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের উপপরিচালক ফররুখ মাহমুদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের মন খারাপ করছে না, এটি ভিসি স্যার পরিষ্কার করে দিয়েছেন।’ সূত্র: নিউজ২৪
খবরওয়ালা/টিএসএন