খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 4শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ১৮ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ঢাকা: দেশের শীর্ষস্থানীয় সোনা ও হীরা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালা বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সিআইডি (পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ) তাদের অনুসন্ধানে নিশ্চিত হয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে সোনা ও হীরা সংগ্রহের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর, যখন সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের আর্থিক লেনদেন, নথিপত্র এবং ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করে। তদন্তে দেখা গেছে যে, প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় বাজার থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে সোনা ও হীরা সংগ্রহ করে অবৈধভাবে ৬৭৮ কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছে। এসব লেনদেনের কোন বৈধ উৎস বা কাগজপত্র প্রমাণিত হয়নি। ফলে সিআইডি অবৈধ অর্থ উপার্জন ও চোরাচালানের অভিযোগে মামলা দায়ের করে।
ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ কুমার আগরওয়ালা এবং তার প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারের মাধ্যমে সোনা ও হীরা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে, তারা সোনা ও হীরার মজুদ স্থানীয়ভাবে চোরাচালানের মাধ্যমে সংগ্রহ করেছে এবং পরবর্তীতে তা বিদেশে পাচার করেছে।
২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সিআইডি তদন্তে দেখা গেছে, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড এলসি (লেটার অফ ক্রেডিট) এর মাধ্যমে বিদেশ থেকে ৩৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকার সোনা, অলংকার, লুজ ডায়মন্ড এবং অন্যান্য দ্রব্য বৈধভাবে আমদানি করেছে। তবে, একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় বাজার থেকে সংগ্রহ করেছে ৬৭৮ কোটি টাকার সোনা ও হীরা, যার বৈধ উৎস বা সরবরাহকারী সংক্রান্ত কোন প্রমাণ সিআইডি খুঁজে পায়নি।
২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর র্যাব (র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন) দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর, বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে তাকে একাধিক মামলা দাখিল করা হয়। দিলীপের আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করেন এবং সব মামলায় জামিন পেয়ে ১ অক্টোবর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।
দিলীপ কুমার আগরওয়ালা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-এ চুয়াডাঙ্গা-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, তবে তিনি পরাজিত হন। তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য, যা তার ব্যবসায়িক প্রভাব এবং সম্পর্কের বিষয়টি আরো জটিল করে তোলে।
এই মামলায় সিআইডি তাদের তদন্ত অব্যাহত রেখেছে এবং আশা করা হচ্ছে, আরো বিশদ তথ্য উন্মোচিত হবে যা এই মামলাকে আরো জটিল করে তুলতে পারে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এই ঘটনার পেছনে আরো বড় কোনো চক্র থাকতে পারে, যা দেশের অর্থনীতি এবং আইনের শাসনের ওপর বিশাল প্রভাব ফেলতে পারে।
| সময়কাল | মোট অর্থ/মালামাল | সরবরাহের উৎস | অবৈধ লেনদেনের পরিমাণ |
|---|---|---|---|
| ২০০৬ – ২০২৪ ফেব্রুয়ারি | ৩৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকার সোনা ও অলংকার (বৈধ আমদানি) | বৈধ এলসি মাধ্যমে আমদানি | ৬৭৮ কোটি টাকা (অবৈধ) |
এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড এবং তার এমডির আইনি পদক্ষেপ ভবিষ্যতে বাংলাদেশের আর্থিক সেক্টরে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা এখনো পর্যালোচনার বিষয়।
খবরওয়ালা/এসজে