খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 26শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১০ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজধানী ঢাকার জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে। গত শনিবার ও রবিবার দিনব্যাপী পরিচালিত এই সাঁড়াশি অভিযানে রাজধানীর আটটি গুরুত্বপূর্ণ থানা এলাকা থেকে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার ডিএমপির পক্ষ থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সফল অভিযানের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর কিছু এলাকায় মাদক কেনাবেচা, ছিনতাই এবং পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের আনাগোনা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষিতে ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মূলত মিরপুর বিভাগ এবং উত্তরা বিভাগের জনবহুল এলাকাগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। পুলিশের একাধিক টিম সমন্বিতভাবে শাহ আলী, ভাষানটেক, মিরপুর মডেল, কাফরুল, রূপনগর, দারুসসালাম, পল্লবী এবং উত্তরা পূর্ব থানা এলাকায় চিরুনি অভিযান চালায়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মাদক ব্যবসায়ী, দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী এবং দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি রয়েছেন। এর মধ্যে শাহ আলী থানা এলাকায় সর্বোচ্চ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উত্তরা পূর্ব এবং পল্লবী থানায় যথাক্রমে ৯ জন করে গ্রেপ্তার হয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে মাদকদ্রব্যসহ অপরাধে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে বলে প্রাথমিক সূত্রে জানা গেছে।
নিচে ডিএমপির বিশেষ অভিযানে থানাভিত্তিক গ্রেপ্তারের সংখ্যা ও অপরাধীদের তথ্যের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া হলো:
| থানার নাম | গ্রেপ্তার সংখ্যা | উল্লেখযোগ্য গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি |
| শাহ আলী | ১৭ জন | রুবেল মোল্লা, আবুল শেখ, আলামিন, আমান, এরশাদ ও অন্যান্য। |
| পল্লবী | ০৯ জন | সাব্বির, সজিব মিয়া, বছির, ফয়সাল, মামুন সরদার প্রমুখ। |
| উত্তরা পূর্ব | ০৯ জন | নোমান, লিটন, সোহেল রানা, হৃদয়, সজীব হোসেন বাবু প্রমুখ। |
| মিরপুর মডেল | ০৬ জন | বাবুল, রাসেল, মামুন গাজী, রুহুল আমিন, রাসেল মিয়া প্রমুখ। |
| রূপনগর | ০৬ জন | রাসেল, আলাউদ্দিন, শিপন, আকরাম, আনন্দ ও মনির। |
| দারুসসালাম | ০৬ জন | জালাল হোসেন, জুয়েল মিয়া, আনোয়ার হোসেন সেলিম প্রমুখ। |
| কাফরুল | ০৪ জন | আরিফ, মেহেদি, আসাদুল্লাহ সুমন ও রাসেদ গাজী। |
| ভাষানটেক | ০৩ জন | কাজু মিয়া, আব্দুল্লাহ সমন ও আহাদ। |
ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইতোমধ্যে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহানগরে চুরি, ছিনতাই এবং মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধি নির্মূল করতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এবং রাতের ঢাকা নিরাপদ রাখতে এ ধরনের আকস্মিক ও বিশেষ অভিযান নিয়মিত বিরতিতে অব্যাহত থাকবে।
নাগরিকদের পক্ষ থেকেও পুলিশের এই তৎপরতাকে সাধুবাদ জানানো হয়েছে। বিশেষ করে মিরপুর ও উত্তরা এলাকার বাসিন্দারা মনে করছেন, এ ধরনের নিয়মিত অভিযান অপরাধীদের মনে ভীতি সঞ্চার করবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বোধ ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। ডিএমপি জনগণকে অনুরোধ করেছে, যেকোনো সন্দেহভাজন গতিবিধি বা অপরাধী সম্পর্কে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করতে।