খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 23শে মাঘ ১৪৩২ | ৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান শ্রমিক আন্দোলনের কারণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) দেশের বিভিন্ন ডিপোতে ডিজেল সরবরাহে বিলম্বের মুখোমুখি হয়েছে। এ পরিস্থিতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তেল ডিলারদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করেছে। কিছু ডিলার সাময়িক এ সমস্যাকে ‘ডিজেল সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করলেও বিপিসি জানিয়েছেন, দেশের পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও খালাসে দেরির কারণে সাময়িক বিলম্ব ঘটেছে।
গত মঙ্গলবার দেশের বিভিন্ন ডিপোতে তেলের সরবরাহে ধীরগতি দেখা যায়। নারায়ণগঞ্জের গোদনাইলের এক ডিলার, নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, তার গাড়ি সকালবেলা মেঘনা ডিপোতে প্রবেশ করলেও তেল সরবরাহ পেতে সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম থেকে জাহাজ সময়মতো না আসায় ডিপোতে তেল কম ছিল। জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজে তেল খালাস হওয়ার পর আমরা তেল পেয়েছি।”
বিপিসির পরিচালক (অপারেশন ও পরিকল্পনা) ড. একেএম আজাদুর রহমান জানান, “চট্টগ্রাম বন্দরে আন্দোলনের কারণে সামান্য বিলম্ব হয়েছে। তবে আমরা দ্রুত লাইটার জাহাজ ব্যবহার করে তেল ডিপোগুলোতে পৌঁছে দিচ্ছি। বর্তমানে সমুদ্রপথে আরও কয়েকটি তেলের জাহাজ রয়েছে, তাই কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই।”
দেশে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ডিজেলের, যা প্রায় ৬ লাখ ২৪ হাজার লিটার। তেলের যেকোনো আমদানির সিডিউলে সামান্য হেরফেরও সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে। বিপিসি সূত্রে জানা যায়, দেশের তেল মজুদ ও সরবরাহের হিসাব নিম্নরূপ:
| তেল ও জ্বালানি পণ্য | ডিপো স্টোরেজ ক্যাপাসিটি (লিটার) | সমুদ্রপথে বর্তমান মজুদ (লিটার) |
|---|---|---|
| এইচএসডি (ডিজেল) | 624,189 | 169,515 |
| এসকেও (সুপারিয়র কেরোসিন) | 36,941 | 12,940 |
| এমএস (মোটর স্প্রিট পেট্রোল) | 37,013 | 20,306 |
| এইচওবিসি (অকটেন) | 53,361 | 54,758 |
| এফওএইচএস (ফার্নেস অয়েল) | 144,869 | 76,967 |
| জেট ফুয়েল | 64,118 | 166,036 |
| অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (পরিশোধিত) | 225,000 | – |
| কনডেনসেট | 5,690 | – |
| নেপথা | 28,840 | – |
| অন্যান্য পণ্য | 121,454 | – |
বিপিসির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও প্রায় ৪.৫ লাখ লিটার ডিজেল দেশে পৌঁছে যাবে। এছাড়া সমুদ্রপথে অকটেন ও জেট ফুয়েলের জাহাজও রয়েছে। তাই সাময়িক বিলম্ব থাকা সত্ত্বেও দেশের তেল সরবরাহে কোনো সংকট তৈরি হবে না।
এই পরিস্থিতি থেকে বোঝা যায়, দেশের জ্বালানি সরবরাহে বেসরকারি ও সরকারি ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় জরুরি। বিশেষ করে ডিজেলের মতো চাহিদাসম্পন্ন পণ্যের ক্ষেত্রে জাহাজের সময়মতো খালাস নিশ্চিত করা, ডিপোগুলোর কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা এবং বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থার বিকল্প প্রয়োগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।