খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে মাঘ ১৪৩২ | ৩ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ডেনমার্কের বাসিন্দাদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে শত্রু হিসেবে দেখা অনেকাংশেই বেড়েছে। দেশটির ৬০ শতাংশ মানুষ এখন মার্কিন সরকারের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কেও রাজনৈতিক অমিলের কারণে জনমতের ধারা বদলাতে পারে।
বিশেষ করে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের ইচ্ছার প্রেক্ষিতে ডেনমার্কের জনগণ স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ। গ্রিনল্যান্ড যদিও কাগজে ডেনমার্কের অংশ, কিন্তু স্বশাসিত ও স্বার্বভৌম অঞ্চলের মর্যাদা রয়েছে। এ কারণে ট্রাম্পের এই প্রস্তাবকে অনেকে আক্রমণাত্মক ও অনুপযুক্ত হিসেবে দেখছেন।
ডেনমার্কের পাঁচ ভাগের এক ভাগ মানুষও যুক্তরাষ্ট্রকে মিত্র হিসেবে দেখার ক্ষেত্রে দ্বিধায় রয়েছেন। প্রথাগতভাবে, ন্যাটো জোটের সদস্য হিসেবে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র ঘনিষ্ঠ মিত্র। তবুও, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে ট্রাম্পের দাবি ডেনিশ নীতিনির্ধারকদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদেরকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, “চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আপনি যুক্তরাষ্ট্রকে মিত্র নাকি শত্রু মনে করেন?” জবাবে মাত্র ১৭ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রকে ‘মিত্র’ হিসেবে দেখেছেন, আর ৬০ শতাংশ বলেছেন যুক্তরাষ্ট্র ‘শত্রু’। বাকি ২৩ শতাংশের মধ্যে অনেকে দ্বিধাগ্রস্ত বা নিরপেক্ষ ছিলেন।
নিম্নে জরিপের বিস্তারিত ফলাফল একটি টেবিলে উপস্থাপন করা হলো:
| প্রতিক্রিয়া | শতকরা হার (%) |
|---|---|
| শত্রু হিসেবে দেখা | 60 |
| মিত্র হিসেবে দেখা | 17 |
| দ্বিধাগ্রস্ত/নিরপেক্ষ | 23 |
ডেনমার্কে এই পরিস্থিতি রাজনৈতিক মহলকেও ভাবিয়ে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কেবল মার্কিন প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাম্পের এমন পদক্ষেপের প্রেক্ষিতে কপেনহেগেনকে নিজেদের ভূখণ্ড ও স্বশাসিত অঞ্চলের মর্যাদা রক্ষায় সতর্ক অবস্থান নিতে হয়েছে।
গ্রিনল্যান্ড এবং ডেনমার্কের জনগণ শীতপ্রধান হলেও তাদের মধ্যে আন্তরিক সম্পর্কের অভাব নেই। তবে সাম্প্রতিক ঘটনায় এই উষ্ণ সম্পর্ক কিছুটা ছেদ পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভবিষ্যতে দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় মজবুত করতে মিশ্র কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন হবে।
এই জরিপই প্রথমবার নয়, বরং গত কয়েক বছরে মার্কিন নীতি ও রাজনৈতিক ঘোষণা ডেনমার্কের জনমতকে প্রভাবিত করেছে। দেশের রাজনীতিক ও কূটনীতিকরা আশঙ্কা করছেন, জনমতের এই ধারা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।