খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
ঢাকার সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য এই বছরটি ছিল বিশেষভাবে হতাশাজনক। শহরে একের পর এক কনসার্ট শেষ মুহূর্তে বাতিল হওয়ায় শিল্পী, দর্শক এবং সংগঠন তিনপাশেই মনোমালিন্য ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে সম্প্রতি ঘটনা ঘটে ১৩ ডিসেম্বর, যখন পাকিস্তানি গায়ক আতিফ আসলামের বহু প্রত্যাশিত কনসার্ট হঠাৎ বাতিল করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বাতিলের খবরে ভক্তদের মধ্যে চরম বিস্ময় ও ক্ষোভের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে। যথাযথ অনুমোদন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আনুষঙ্গিক লগিস্টিক নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়ে আয়োজকরা শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠানটি বন্ধ করতে বাধ্য হন। আতিফ আসলাম নিজেও ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে হতাশাজনক এই বাতিলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি কিংবদন্তি ব্যান্ড মাইলসের সদস্য হামিন আহমেদ একটুও হড়বড় করেননি। তিনি স্পষ্টভাবে জানালেন, “প্রথমে সব অনুমোদন নিন, তারপর কনসার্টের প্রচার ও টিকিট বিক্রি করুন—এটাই সরল ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পদ্ধতি। ভোঁতা প্রতিশ্রুতি, অজুহাত এবং সঙ্গীতপ্রেমীদের হতাশ করা কখনোই লাইভ মিউজিকের অভিজ্ঞতা ধ্বংস করতে পারবে না।”
হামিন আরও বলেছেন, ঢাকায় এই বছরের মধ্যে বহু কনসার্ট অনুমোদন ছাড়া প্রচার ও টিকিট বিক্রির মাধ্যমে আয়োজন করা হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত বাতিল করা হয়। এই ধরনের ঘটনার ফলে শিল্পী, দর্শক এবং আয়োজক সকলেই হতাশ হয়েছেন। তিনি বললেন, “অনুমোদন ছাড়া অনুষ্ঠান প্রচার করলে দর্শকের অভিজ্ঞতা নষ্ট হয় এবং শিল্পীর সুনামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকারি নিয়মকানুন এবং নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে চললে সাফল্যমণ্ডিত, উচ্চমানের কনসার্ট আয়োজন করা সম্ভব।”
হামিনের সমালোচনা কেবল আয়োজকদের উদ্দেশ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; তিনি রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষকেও টার্গেট করেছেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশের ৫৪ বছরের নির্বাচনী ইতিহাসে কোনো রাজনৈতিক দল কখনো সঙ্গীতকে তার প্রতিশ্রুতির অগ্রাধিকার দেয়নি। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “সব বিষয়ে পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়—তাহলে সঙ্গীত কেন নয়?” তার মন্তব্যের মাধ্যমে হামিন জনগণের দায়িত্ববোধ এবং নির্বাচনী প্রভাবের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অগ্রগতির গুরুত্বকেও তুলে ধরেছেন।
পরিশেষে বলা যায়, অনুমোদন ও পরিকল্পনার অভাবে শেষ মুহূর্তে কনসার্ট বাতিল হয়ে যাওয়ার ঘটনা শিল্পী ও দর্শক উভয়কেই হতাশ করে। হামিন আহমেদের স্পষ্ট ও তীক্ষ্ণ সমালোচনা আয়োজক, শিল্পী এবং কর্তৃপক্ষকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে—পরিকল্পনা, অনুমোদন এবং সাংস্কৃতিক অগ্রগতির প্রতি আন্তরিকতা ছাড়া ঢাকায় সফল ও উপভোগ্য লাইভ কনসার্ট আয়োজন কল্পনাই থেকে যায়।