খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
বিশ্ববিদ্যালয়ে পাকিস্তানের প্রতীকী পতাকা পদদলনের ঘটনায় নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জাতীয়তাবাদী অবস্থান। ডিসেম্বর—বিজয়ের মাস—এলেই দেশজুড়ে মুক্তিযুদ্ধ, পাকিস্তানি হানাদারদের নৃশংসতা এবং স্বাধীনতার সংগ্রাম নিয়ে জনমনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ঠিক সেই আবহেই ঢাবির একদল শিক্ষার্থী পাকিস্তানের প্রতীকী পতাকা প্রদর্শন ও তার ওপর দিয়ে হাঁটার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির প্রতি ঘৃণা জানান।
জিয়াউর রহমান হল, বিজয় একাত্তর হল এবং সার্জেন্ট জহুরুল হক হল—এই তিনটি হলের প্রবেশপথে বড় আকারে পাকিস্তানের পতাকা আঁকা হয়। পতাকার নিচে লেখা ছিল—“No Compromise with Razakar”—যা রাজাকার ও পাকিস্তানপন্থী শক্তির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে। শিক্ষার্থীরা বলেন, এই বার্তা শুধু বর্তমান রাজনীতির উদ্দেশে নয়, বরং জাতির ইতিহাস, চেতনা ও স্বাধীনতার মূল্য ধরিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা।
হলে আঁকা পতাকাগুলোর ওপর শিক্ষার্থীরা সারিবদ্ধভাবে হাঁটেন, যা ছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের প্রতি ক্ষোভের প্রকাশ। ঘটনাস্থলের ছবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ফেসবুকে অনেকেই প্রশংসাসূচক মন্তব্য করেন যে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম ইতিহাসকে ভুলছে না, বরং নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ়ভাবে প্রকাশ করছে।
ঢাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী কারিব চৌধুরী বলেন, “স্বাধীনতার মাসে এই প্রতীকী প্রতিবাদ আমাদের শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গর্ব ও কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ।” তাঁর মতে, পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা, নারীর ওপর নির্যাতন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যাকাণ্ড—সবই আজকের প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে হবে।
তিনি আরও যোগ করেন, “ঢাবির এই অবস্থান স্বাধীনতার আত্মত্যাগকে স্মরণ করিয়ে দেয় এবং একই সঙ্গে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। যে প্রজন্ম ইতিহাস ভুলে যায়, তারা ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে পারে না।”
সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এমন প্রতীকী প্রতিবাদ তরুণদের মধ্যে ইতিহাস সচেতনতা বৃদ্ধি করে এবং জাতীয় চেতনা আরও শক্তিশালী করে। বাংলাদেশের ইতিহাসে পাকিস্তানবিরোধী ক্ষোভ কোনো রাজনৈতিক দলের তৈরি করা এজেন্ডা নয়; বরং এটি বর্ণিল, বেদনার্ত এবং সংগ্রামী ইতিহাসের ফল। দেশকে স্বাধীন করতে যে একাত্তরের যুদ্ধ হয়েছিল, সেই স্মৃতি যুগ যুগ ধরে জাতির পরিচয় নির্ধারণ করে।
যদিও পরে হলগুলোর সামনে আঁকা পতাকাগুলো সরিয়ে ফেলা হয়, তবে প্রতিবাদের ছবি ও বার্তা ইতোমধ্যেই লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু শিক্ষার কেন্দ্রই নয়; এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনা, জাতীয়তাবাদ এবং স্বাধীনতার মূল্যবোধ তুলে ধরার অন্যতম প্রধান মঞ্চ।