খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র তারেক মাসুদ। ১৯৫৭ সালের ৬ ডিসেম্বর ফরিদপুরের ভাঙ্গার নূরপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া এই স্বপ্নবান নির্মাতা আলোর-অন্ধকারের ফাঁকে ছবির ভাষায় সমাজ, ইতিহাস ও মানুষের জীবনকে অনন্য ভঙ্গিতে তুলে ধরেছিলেন।
১৯৮৫ সালে নির্মিত তাঁর প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘সোনার বেড়ী’ তাঁর দেশ, মানুষ ও সময় নিয়ে গভীর ভাবনার প্রথম প্রকাশ। একই বছর ‘আদম সুরত’ তথ্যচিত্র নির্মাণের পর তিনি বুঝে নেন—চলচ্চিত্রই হবে তাঁর সত্য বলার ভাষা, তাঁর কথার নির্ভরযোগ্য মাধ্যম।
মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে নির্মিত ‘মুক্তির গান’ ও ‘মুক্তির কথা’ শুধু তথ্যচিত্র নয়—যুদ্ধের স্মৃতি, বেদনা এবং উৎসর্গের এক অমর দলিল। এছাড়া ‘নারীর কথা’, ‘ইন দ্য নেইম অব সেফটি’, ‘আ কাইন্ড অব চাইল্ডহুড’, ‘ভয়েসেস অব চিলড্রেন’—প্রতিটি প্রামাণ্যচিত্রই মানবিক সত্তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করে।
স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রেও তাঁর মুন্সিয়ানা ছিল বিস্ময়কর—সে, নরসুন্দর, শিশু কথা, নিরাপত্তার নামে, বিপন্ন বিস্ময়, নিরপরাধ ঘুম, সুব্রত সেনগুপ্ত ও সমকালীন বঙ্গসমাজ, ইউনিসন—প্রতিটি কাজেই তিনি নির্মাণ করেছেন শিল্পের এক ভিন্ন জগৎ।
২০০২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মাটির ময়না’ তাঁর প্রথম ফিচার চলচ্চিত্র, যা বাংলাদেশি সিনেমাকে বিশ্বমঞ্চে নতুন পরিচিতি দেয়। কান চলচ্চিত্র উৎসবে ‘ডিরেক্টরস ফোর্টনাইট’-এ প্রদর্শিত হয়ে এটি আন্তর্জাতিক প্রশংসা পায় এবং দেশের প্রথম চলচ্চিত্র হিসেবে অস্কারের বিদেশি ভাষার বিভাগে মনোনয়ন লাভ করে—যা প্রমাণ করে তারেক মাসুদ শুধু পরিচালক নন, তিনি ছিলেন দূরদর্শী চলচ্চিত্র স্রষ্টা।
২০১০ সালে প্রকাশিত তাঁর শেষ চলচ্চিত্র ‘রানওয়ে’ সমাজের অন্ধকারের ভেতর আলো খুঁজে ফেরার অনন্য প্রচেষ্টা।
চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১২ সালে তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। কিন্তু তার আগেই, ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট ‘কাগজের ফুল’ চলচ্চিত্রের লোকেশন দেখে ফেরার পথে মানিকগঞ্জে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি চিরবিদায় নেন। একই ঘটনায় চলচ্চিত্রকার ও সাংবাদিক মিশুক মুনীরও প্রাণ হারান।
তারেক মাসুদ আজ আর নেই—কিন্তু তাঁর কাজ, তাঁর স্বপ্ন ও তাঁর চলচ্চিত্র আজও বাংলাদেশি সিনেমার ভুবনে আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। গল্প বলার শিল্পে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়।
খবরওয়ালা /এসএস