খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫
গাজীপুরের শ্রীপুরে তিন কন্যাশিশুকে নিয়ে চলন্ত বাসের নিচে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন মঞ্জুরুল হক (৩০) নামের এক প্রতিবন্ধী বাবা।
আজ বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাওনা চৌরাস্তা উড়ালসড়কের নিচে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।
পথচারীরা সময়মতো এগিয়ে এসে তাকে ও তিন সন্তানকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
মঞ্জুরুল হক ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মধ্যপালা গ্রামের বাসিন্দা। স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে তিনি শ্রীপুরের গড়গড়িয়া এলাকায় ভাড়া থাকেন। তার তিন মেয়ের মধ্যে বড় মরিয়ম আক্তার (৯), মেঝ মাহমুদা আক্তার (৬), আর ছোট জান্নাতুল আক্তার মাত্র আড়াই বছরের।
পথচারীরা জানান, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মাওনা চৌরাস্তার ঢাকামুখী লেনে মেয়েদের জড়িয়ে সড়কে শুয়ে পড়েন মঞ্জুরুল। ছোট মেয়েটিকে বুকে জড়িয়ে, অন্য দুই মেয়েকে হাতে ধরে ছিলেন তিনি। দৃশ্যটি দেখে উপস্থিত লোকজন চিৎকার শুরু করলে বাস থেমে যায় এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
উদ্ধারের পর কান্নাজড়িত কণ্ঠে মঞ্জুরুল জানান, স্ত্রী ও বড় মেয়ে অসুস্থ। খাদ্যসংকটসহ নানা অভাবে তিনি দিশেহারা। একসময় অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালালেও হাইওয়ে পুলিশের চাঁদাবাজিতে সেটি বিক্রি করতে বাধ্য হন। প্রতিদিন ৪০০ টাকা চাঁদা না দিলে হুমকি দেওয়া হতো মামলা ও গাড়ি ডাম্পিংয়ের।
তার অভিযোগ, মহাসড়ক পুলিশের এক সার্জেন্ট শামীমের চাপে চার মাস আগে তিনি ৬০ হাজার টাকায় অটোরিকশাটি বিক্রি করেন। সেই টাকাও শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে তিনি একেবারেই নিঃস্ব।
মঞ্জুরুল আরও জানান, একসময় তিনি বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি ছিলেন। কাজ করার সময় চোখে আঘাত পেয়ে বাঁ চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান এবং বাঁ হাতটিও কনুই থেকে ভেঙে যায়।
ঘটনার ব্যাপারে শ্রীপুর থানার ওসি মো. আব্দুল বারিক বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
তবে হাইওয়ে থানার ওসি আইয়ুব আলী বলেন, ‘শামীম নামে কোনো সার্জেন্ট আমাদের থানায় নেই। অভিযোগের বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও মানবিক সহানুভূতির সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র: kalerkantho
খবরওয়ালা/শরিফ