খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 6শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ১৯ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কুড়িগ্রামে তিস্তা নদীর বাম তীরের প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার অরক্ষিত থাকায় নদীপাড়ের বাসিন্দারা তীব্র ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। একই সঙ্গে সাড়ে চৌদ্দ কিলোমিটার নদী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তিনটি পয়েন্টে কাজ এখনো শুরু না হওয়ায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের ঝুঁকি আরও বেড়েছে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হঠাৎ পানির স্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং পানি নেমে গেলে দ্রুত কাজ শেষ করা হবে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন প্রকল্পের (দক্ষিণ প্রকল্প) আওতায় ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে উলিপুর উপজেলার তিস্তা নদীর বাম তীরে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ভাঙনপ্রবণ এলাকায় ৪০টি প্যাকেজে ৮৫ লক্ষ টাকার কাজ হাতে নেওয়া হয়। এর মধ্যে বর্ষা মৌসুমের আগেই প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে এখনো তিনটি প্যাকেজের কাজ শুরু না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় উদ্বেগ বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পশ্চিমে ওয়াপদার ক্রস বাঁধ থেকে পূর্বে গাইবান্ধা জেলার কাসিমবাজার পর্যন্ত ভাঙন প্রতিরোধে কাজ চলমান থাকলেও মাঝখানের কিছু অংশে কার্যক্রম না থাকায় পুরো এলাকাজুড়ে ঝুঁকি রয়ে গেছে। তাঁদের মতে, আসন্ন বন্যায় প্রায় ২৫ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বর্ষার সময় অনেক পরিবারকে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হয় এবং গবাদিপশু নিয়েও চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।
এ বিষয়ে বজরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম সরকার বলেন, ইউনিয়নের সাড়ে ছয় কিলোমিটার তিস্তা তীরের মধ্যে তিন কিলোমিটার অংশের জন্য বরাদ্দ থাকলেও এখনো তিনটি প্যাকেজের কাজ শুরু হয়নি। পাশাপাশি অবশিষ্ট সাড়ে তিন কিলোমিটার অংশের জন্য কোনো বরাদ্দ না থাকায় আসন্ন বন্যায় পরিস্থিতি আরও সংকটময় হতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রশাসনিক তথ্যের ভিত্তিতে তিস্তা তীরের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোর বর্তমান অবস্থার একটি সারসংক্ষেপ নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | অবস্থা |
|---|---|
| মোট প্রতিরক্ষা কাজের দৈর্ঘ্য | সাড়ে চৌদ্দ কিলোমিটার |
| অরক্ষিত নদীতীর | প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার |
| চলমান প্রকল্প প্যাকেজ | ৪০টি |
| বরাদ্দকৃত অর্থ | ৮৫ লক্ষ টাকা |
| সম্পন্ন কাজ | প্রায় ৭৫ শতাংশ |
| অসম্পূর্ণ প্যাকেজ | ৩টি |
| ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী | প্রায় ২৫ হাজার |
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, তিস্তা নদীতে দুটি পর্যায়ে সাড়ে চৌদ্দ কিলোমিটার এলাকায় কাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি প্যাকেজে মাটি ভরাট কাজ সম্পন্ন হলেও ঢাল সুরক্ষা কাজ এখনো শুরু হয়নি। পানি নেমে গেলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি তৃতীয় পর্যায়ে আরও সাড়ে তিন কিলোমিটার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অংশ চিহ্নিত করা হলেও এখনো তার অনুমোদন পাওয়া যায়নি। এই অংশগুলো বর্তমানে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে ভাঙন প্রতিরোধে তৎক্ষণাৎ ভূ-থলি ব্যবহার করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।