খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫
ষাটের দশকের ছাত্রনেতা, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা এবং সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এখনো জীবিত আছেন। তবে তাঁর অবস্থা ‘ক্রিটিক্যাল’ অর্থাৎ সংকটাপন্ন।
শনিবার (৪ অক্টোবর) রাত ১১টার পর তাঁর মেয়ের জামাই ডা. তৌহিদুজ্জামান জানান, রাত ৮টার দিকে তোফায়েল আহমেদের রক্তচাপ ও পালস হঠাৎ কমে যায়। পরে সাময়িকভাবে সেটি স্থিতিশীল হলেও অবস্থা আগের চেয়ে বেশি অবনতি হয়েছে। বর্তমানে তিনি লাইফ সাপোর্টে আছেন।
এদিকে দিনের বিভিন্ন সময় তাঁর মৃত্যুর গুজব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি আওয়ামী লীগের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকেও ভুলবশত একটি মৃত্যু সংবাদ শেয়ার করা হয়। বিষয়টি পরিবার ‘পীড়াদায়ক’ বলে মন্তব্য করেছে।
তোফায়েল আহমেদের সাবেক ব্যক্তিগত সহকারীও নিশ্চিত করেছেন, তিনি এখনো লাইফ সাপোর্টে আছেন। কোনো পরিবর্তন হলে পরিবার থেকেই জানানো হবে।
প্রবীণ এই রাজনীতিক বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছেন। গত ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কয়েক বছর ধরে তিনি হুইলচেয়ারে চলাফেরা করছেন এবং স্ট্রোকজনিত কারণে শরীরের একাংশ প্যারালাইজড হয়ে গেছে।
১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলায় জন্মগ্রহণ করেন তোফায়েল আহমেদ। ১৯৬৮-৬৯ সালে ডাকসুর ভিপি থাকাকালে তিনি সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন। সেই সময় শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেওয়ার ঘোষণা তাঁর মুখ থেকেই আসে।
মুক্তিযুদ্ধকালে মুজিব বাহিনীর চার আঞ্চলিক প্রধানের একজন ছিলেন তিনি। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তাঁকে রাজনৈতিক সচিবের দায়িত্ব দেন প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায়। পরে আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করে তিনি শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীসহ একাধিকবার মন্ত্রিপরিষদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য।
খবরওয়ালা/আশ