খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫
দীর্ঘদিনের পুরনো সীমান্ত বিরোধ ফের রক্তক্ষয়ী রূপ নিয়েছে থাইল্যান্ড ও কাম্বোডিয়ার মধ্যে। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) শুরু হওয়া সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৩ জনই বেসামরিক নাগরিক এবং একজন সেনাসদস্য। আহত হয়েছেন আরও ৪৬ জন। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার স্বার্থে চারটি প্রদেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৬৭২ জন মানুষকে।
থাই সেনাবাহিনীর দাবি, কাম্বোডিয়ান বাহিনী ট্রাক-মাউন্টেড রকেট হামলা চালালে প্রতিক্রিয়ায় থাইল্যান্ডের পক্ষ থেকে F-16 যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে পাল্টা বিমান হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে, কাম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, থাই বোমাবর্ষণে ইউনেস্কো ঘোষিত একটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের নিকটবর্তী এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল।
বুধবার ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে পাঁচজন থাই সেনা আহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই মূলত উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। সংঘর্ষের ধারাবাহিকতায় দুই দেশ একে অপরের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করেছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস দুই দেশকে শান্তিপূর্ণভাবে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়ে “সর্বোচ্চ সংযম” দেখানোর অনুরোধ করেছেন। শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সংঘর্ষের কারণে সীমান্ত অঞ্চলে মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। হাজার হাজার মানুষ ট্রাক, গাড়ি এবং অন্যান্য যানবাহনে করে এলাকা ত্যাগ করে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছেন। থাই সরকার সাময়িকভাবে সমস্ত স্থল সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে এবং নাগরিকদের কাম্বোডিয়া থেকে সরে আসার নির্দেশ দিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে থাইল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও চাপে পড়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচায়াচাইকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো কড়া সমালোচনার মুখে ফেলেছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন