ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা স্থানীয় এলাকায় গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। ঘটনাটি ঘটে শনিবার (২০ জুন) সকালে, এবং একই দিন দুপুরে ফরিদপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
নিহত শিশুর নাম সেক আব্দুল্লাহ (৫)। তিনি উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের চর অমরাপুর গ্রামের সেক শাহেদের সন্তান। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে আব্দুল্লাহ ছিল পরিবারের সবচেয়ে ছোট সন্তান। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, সে প্রতিদিনের মতোই বাড়ির আশপাশে খেলাধুলা করছিল।
ঘটনার দিন সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে বাড়ির পেছনে খেলতে গিয়ে একটি কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে থাকা বিষাক্ত সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। কামড়ের পরপরই শিশুটি বাড়িতে গিয়ে তার মাকে জানায় যে তাকে “ব্যাঙে কামড় দিয়েছে”। বিষয়টি শুরুতে সঠিকভাবে বোঝা না যাওয়ায় পরিবার তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে স্থানীয়ভাবে ঝাড়ফুঁক বা প্রাথমিক ধারণার ওপর নির্ভর করে সময় নষ্ট করে।
পরবর্তীতে শিশুটিকে স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে নেওয়া হয়, যাকে এলাকাবাসী “ফকির” হিসেবে চেনে। সেখানে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে জানানো হয় এটি সাপের কামড় নয়। এই ভুল ধারণার কারণে শিশুটির চিকিৎসায় আরও বিলম্ব ঘটে। কিছু সময় পর তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি শুরু হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ফরিদপুরের হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন, তবে দুপুর ১২টার দিকে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করা হয়। চিকিৎসকদের ধারণা অনুযায়ী, সাপের বিষক্রিয়ার কারণে দ্রুত শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল এবং সময়মতো নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা না পাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ঘটনাটি নিশ্চিত করা হয়েছে। গাজিরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী জানান, প্রথমে শিশুটিকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার পরিবর্তে অপ্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঘটনার সময়রেখা
| সময় |
ঘটনা |
| সকাল প্রায় ৯টা |
বাড়ির পেছনে খেলতে গিয়ে সাপের কামড় |
| সকাল পরবর্তী সময় |
শিশুটি “ব্যাঙে কামড়” বলে পরিবারকে জানায় |
| সকাল ১০টার দিকে |
স্থানীয় অপ্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয় |
| কিছু সময় পর |
শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি শুরু হয় |
| সকাল শেষে |
দ্রুত ফরিদপুরের হাসপাতালে নেওয়া হয় |
| দুপুর ১২টা |
চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু |
এ ধরনের ঘটনায় বিশেষজ্ঞরা সাধারণত সতর্ক করেন যে সাপের কামড়কে যেকোনো পরিস্থিতিতে জরুরি চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। কারণ অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিক ভুল ধারণা বা সময়ক্ষেপণ জীবনহানির ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় শিশুদের খেলাধুলার সময় ঝোপঝাড় বা স্ল্যাবের নিচে লুকিয়ে থাকা সাপের উপস্থিতি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এই ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিল যে সাপে কামড়ানোর পর দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণই জীবন বাঁচানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।