খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: 4শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ | ১৮ই মে ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
নাইমুলের মুক্তি ও অন্যান্য দাবি মানার আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত করেছেন সশস্ত্র বাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্যরা। রবিবার (১৮ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে আলোচনা শেষে চাকরিচ্যুত সেনা সদস্যরা বেরিয়ে যান।
এরপর সাবেক সৈনিক মো. কামরুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, আমরা বলেছি আমাদের গ্রেপ্তার হওয়া বরখাস্ত সৈনিক মো. নাঈমুল ইসলামকে মুক্তি দিতে হবে। তিনি বলেছেন আজ যেহেতু অফিস সময় শেষ হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তার করে জেলখানায় পাঠানো হয়েছে, সে ক্ষেত্রে আমাদের প্রতিনিধিদল ও লেফটেন্যান্ট ইফতেখার স্যারসহ কাল তার মুক্তির ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবো।
এছাড়া চাকরি পুনর্বহালের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, যাদের চাকরির বয়স ১০ বছরের নিচে, তাদের চাকরি ফেরতের বিষয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন। আর যাদের বয়স নেই তাদের পেনশনের আওতাভুক্ত করার কথাও জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আমাদের প্রতি সদয়– এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমাদের তারা দুটি অপশন দিয়েছেন। যারা আমাদের মাঝে রেকর্ডের কার্যক্রম সম্পন্ন করেছি, তাদের আর নতুন করে অ্যাপ্লিকেশন করা লাগবে না। আর যারা অ্যাপ্লিকেশন জমা দেয়নি এবং রেকর্ডের কার্যক্রম সম্পন্ন করেনি, তাদের বাই নেমে আজ রাতের মধ্যে তা জমা দিতে হবে। আমরা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আরিফ স্যার বরাবর দরখাস্তগুলো পাঠাবো। আমরা আশা করবো আজকের আলোচনা উনারা মাননীয় সেনাপ্রধানের কাছে তুলে ধরবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা আমাদের লিখিত দেবেন এসব দাবি দাওয়ার বিষয়ে। আমরা লিখিত দেবো যে আমরা এ পরিস্থিতিকে কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করবো না।’
দাবি আদায় না হলে আবারও আন্দোলনে নামা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কাল আমরা দেখবো নাইমুলকে মুক্তি দেওয়া হয় কি না। আমরা সবাই ঢাকায় অবস্থান করবো। তাকে যদি মুক্তি না দেওয়া হয় তাহলে আবার আমরা কর্মসূচি দেবো।’
দাবি আদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যেহেতু এ বিষয়গুলো বৈষম্যের কারণে হয়েছে। তাই তারা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়গুলো বিবেচনা করবেন। সেনাবাহিনীর মুখের কথা গ্রহণযোগ্য। তারা প্রায় চার ঘণ্টা এখানে উপস্থিত ছিলেন। তারা আমাদের নিজেদের ইউনিফর্মের মানুষ বলে সম্মান দেখিয়েছেন।’
এর আগে আজ দুপুর থেকে স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিক্ষোভ শুরু করেন চাকরিচ্যুতরা। কর্মসূচির মধ্যেই সেনাবাহিনীর ভেটেরান ডিরেক্টর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিনুর রহমানসহ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁদের কথা শোনেন।
বিকেলে প্রথম দফার আলোচনা শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা তাদের দাবিদাওয়াগুলো শুনেছি। আমরা সব দাবিদাওয়া নোট করেছি। এগুলো নিয়ে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আমিনুর রহমান বলেন, ‘তাদের বলেছি, সবাইকে আলাদা আলাদা করে আবেদন করতে। আবেদনের ঠিকানা আমরা দিয়ে গেছি। ইনডিভিজুয়াল কেসের মেরিট অনুযায়ী আমরা বসব, আলাপ-আলোচনা করে আপনাদের যত দ্রুত সম্ভব, যতখানি দেওয়া সম্ভব, আমরা অ্যাড্রেস করব। এটাও বলেছি যে, সেনাবাহিনীর যে আইনশৃঙ্খলা, এটা অবশ্যই মেইনটেইন করতে হবে। আমরা মানবিকভাবে যতটুকু সাহায্য করার করব।’
তাঁরা কি আপনাদের কথা মেনেছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে আমিনুর রহমান বলেন, ‘হ্যাঁ, তাঁরা মেনেছেন। তাঁরা অপেক্ষা করবেন। আমাদের কার্যক্রম চলবে।’
গত শনিবার তাঁদের একজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আমিনুর রহমান বলেন, ‘ওটা একটা আইনগত বিষয়; মামলার বিষয় এবং তাঁকে আমাদের পক্ষ থেকে যতটুকু সহায়তা করা যায়, আমরা করব। ৮০০-এর মতো অ্যাপ্লিকেশন পড়েছে, যার মধ্যে এক শর বেশি আমরা অ্যাড্রেস করেছি।
আপনাদের কথায় তাঁরা সন্তুষ্ট কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মনে তো হলো সন্তুষ্ট।’ সবশেষে তিনি এই কর্মসূচি সমাপ্ত করার অনুরোধ জানান।
পরে চাকরিচ্যুত নৌবাহিনীর নাবিক বাহাউদ্দিন বলেন, ‘নয় মাস ধরে আমাদের দাবিটি করে আসছি। আমাদের ব্যাপারটা কালক্ষেপণ হয়ে গিয়েছিল। তাই আমরা একটা অবস্থান কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। আমাদের প্রধান সমন্বয়ককে ধরে নেওয়া হয়েছিল। প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারা বলেছে, কালকে বা পরশু দিনের মধ্যে প্রথম ধাপে একটা ফলাফল দেবে। চাকরিচ্যুত সবাইকেই বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে আসবে। যে অপরাধ করেনি, তাকে বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে আসা হবে। তবে গুরুতর অপরাধীকে দেওয়া যাবে না।’
বাহাউদ্দিন বলেন, ‘তাদের প্রতি বিশ্বাস রেখে আমরাও ধৈর্য ধরছি। তাদের প্রতি বিশ্বাস রাখছি। তারা চাইলে আমাদের বিষয়গুলোর ডিসপোজাল দিতে পারে। তারা অবশ্যই দেবে, এই বিশ্বাস রয়েছে।’
এরপর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রেসক্লাব থেকে বের হওয়ার সময় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিনুর রহমানের গাড়িবহরের সামনে চাকরিচ্যুতরা শুয়ে পড়েন। পরে প্রেসক্লাবের ভেতর থেকে গাড়ি আর বের হতে পারেনি। পরে আমিনুর রহমান আবার গাড়ি থেকে নেমে সবাইকে বোঝান। তাঁর কথার বিপরীতে চাকরিচ্যুতরা প্রেসক্লাবে বসেই সমাধান করতে বলেন।
সন্ধ্যা পৌনে ৬টা পর্যন্ত এর কোনো সমাধান হয়নি। তখন থেকে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। প্রেসক্লাবের ভেতরে শতাধিক সেনাসদস্য উপস্থিত ছিলেন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সমঝোতার পর পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা প্রেসক্লাব থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেন। এরপর সেনা কর্মকর্তা সেখান থেকে বেরিয়ে যান।
এদিকে এই অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ঢাকা সেনানিবাসের প্রবেশমুখ ও চারপাশে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া পাহারা। সকাল থেকে জাহাঙ্গীর গেট, বিএএফ শাহীন কলেজ, মহাখালী রেলগেট, কাকলী, বনানীতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়, ছিলেন সেনাবাহিনীর সদস্যরাও।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জাহাঙ্গীর গেট এলাকায় উভয়পাশে পুলিশ ও সেনাবাহিনী দিনব্যাপী কড়া পাহারায় ছিল। এ ছাড়া বিএএফ শাহীন কলেজের সামনে মহাখালী রেলগেটে, কাকলী, বনানী ও কচুক্ষেতেও ছিলেন পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। তবে এসব এলাকায় কাউকে জড়ো হতে দেখা যায়নি।
খবরওয়ালা/এসআর