খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 11শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২৩ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ময়মনসিংহ নগরের আনন্দ মোহন কলেজের তৃতীয় বর্ষের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী নূরুল্লাহ শাওন (২৬) ব্রহ্মপুত্র নদ পাড়ে বেড়াতে গিয়ে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর শিকার হয়েছেন। শুক্রবার রাতে শাওনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার সঙ্গে থাকা বন্ধু বেঁচে ফিরলেও ঘটনাস্থল এবং মৃত্যুর পেছনের পরিস্থিতি নিয়ে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুই কিশোর জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছয় কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে আদালতের মাধ্যমে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকী পাঁচ কিশোরকে গতকাল সন্ধ্যায় আদালতে হাজির করা হলে, দুজন জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিদাতা কিশোরদের বয়স যথাক্রমে ১৪ ও ১৫ বছর।
| প্রাপ্ত তথ্য | বিস্তারিত |
|---|---|
| নিহতের নাম | নূরুল্লাহ শাওন |
| বয়স | ২৬ বছর |
| কলেজ | আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ |
| বিভাগ | রসায়ন, তৃতীয় বর্ষ |
| বাড়ি | চর জাকালিয়া, কটিয়াদী, কিশোরগঞ্জ |
| ঘটনার তারিখ | শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |
| জবানবন্দি কিশোরদের বয়স | ১৪ ও ১৫ বছর |
| গ্রেপ্তার কিশোরদের সংখ্যা | ৬ জন |
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, দুই বন্ধু ব্রহ্মপুত্র নদ পাড়ে বেড়াতে গিয়ে একটি কিশোর দলের সামনে পড়েন। দলটি কেন তারা নদীর পাশে এসেছে তা জানতে চায়। শিক্ষার্থীরা বেড়াতে আসার কথা বললে, তাদের কাছে থাকা মূল্যবান সামগ্রী বের করতে বলা হয়।
শাওনের সঙ্গে একটি বাটন মুঠোফোন এবং তার বন্ধুর সঙ্গে একটি স্মার্টফোন ছিল। দলটি মারধর শুরু করলে দুই বন্ধু প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ান। তার মধ্যে একজন নদ সাঁতরে বেঁচে ফিরেন, কিন্তু শাওন নদে ঝাঁপ দেন। নদীর গভীরতা এবং সাঁতার না জানা কারণে তিনি তলিয়ে যান। দলটির সদস্যরা পানিতে নেমে সাহায্য করেননি। পরিস্থিতি এমন ছিল যে মুহূর্তের মধ্যেই শাওন তলিয়ে যান এবং দলটি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন আরও জানান, কিশোর দলটি কতদিন ধরে এ ধরনের অপরাধ করছে তা এখনও জানা যায়নি। তাদের আগে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এবং তারা সবাই দলিত সম্প্রদায়ের শিশু। আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার পর, সব কিশোরকে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় সমাজে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নদীর পাশে যেকোনো বেআইনি গোষ্ঠীর উপস্থিতি কিশোরদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ইতোমধ্যেই নদী পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।