খবরওয়ালা স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৫
টানা পঞ্চমবারের মতো এএইচএফ কাপ জয়ের লক্ষ্যে ইন্দোনেশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিল বাংলাদেশের জাতীয় হকি দল। তবে প্রত্যাশার বিপরীতে হয়েছে চরম হতাশা। ইতিহাস গড়ে টানা চারবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এবার প্রথমবারের মতো ফাইনালেই উঠতে ব্যর্থ হয়েছে লাল-সবুজের দল। ফলে ভেঙে গেছে এশিয়া কাপ খেলার স্বপ্নও—যা বাংলাদেশের হকি ইতিহাসে এক নতুন ও কলঙ্কিত অধ্যায়।
এবারের এএইচএফ কাপের সেমিফাইনালে বাংলাদেশ মুখোমুখি হয় শক্তিশালী ওমানের। উত্তেজনাপূর্ণ এই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ৪-০ গোলে হেরে যায় বাংলাদেশ। এই পরাজয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের ফাইনাল ও এশিয়া কাপ খেলার পথ একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। কারণ এএইচএফ কাপ মূলত এশিয়া কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনের মঞ্চ হিসেবে কাজ করে থাকে।
রবিবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশ ৩-০ গোলে হারায় কাজাখস্তানকে। গোল করেন আরশাদ হোসেন, মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম ও রকিবুল হাসান। উল্লেখ্য, গ্রুপ পর্বেও কাজাখস্তানের বিপক্ষে ৪-১ গোলে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ।
তৃতীয় স্থান অর্জন করলেও এটি ছিল এক রকম ‘সান্ত্বনা পুরস্কার’ মাত্র। মূল লক্ষ্য ছিল ফাইনাল এবং এশিয়া কাপ, যেটি অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় সমগ্র টুর্নামেন্টটি বাংলাদেশের জন্য রয়ে গেল ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি হিসেবে।
১৯৮২ সালে শুরু হওয়া এশিয়া কাপ হকির প্রতিটি আসরে বাংলাদেশ খেলেছে। আগে র্যাংকিং ও সরাসরি আমন্ত্রণের ভিত্তিতে খেলার সুযোগ মিললেও ২০০৮ সাল থেকে এশিয়ার দ্বিতীয় সারির দলগুলোর জন্য শুরু হয় এএইচএফ কাপ। এখান থেকেই শীর্ষ দলগুলো এশিয়া কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।
বাংলাদেশ এই প্রতিযোগিতায় প্রথম আসর থেকেই আধিপত্য দেখিয়ে এসেছে এবং টানা চারবারের চ্যাম্পিয়ন ছিল। কিন্তু ২০২৫ সালের আসরের জন্য এবারই প্রথম সেই ধারাবাহিকতা ভেঙে গেল। ফলে ৪৩ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপে থাকবে না বাংলাদেশ।
এ ব্যর্থতার দায় গিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সদ্য গঠিত অ্যাডহক কমিটির ওপর। বিশেষ করে অভিজ্ঞ এবং দেশসেরা ফরোয়ার্ড রাসেল মাহমুদ জিমিকে ‘বয়সের কারণে’ দল থেকে বাদ দেওয়া নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। অনেকেই মনে করছেন, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের ঘাটতির কারণেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দল ছন্দ হারিয়েছে।
বাংলাদেশের হকি ঐতিহ্য একসময় গর্বের ছিল। দক্ষিণ এশিয়ায় অন্যতম শক্তিধর দল হিসেবেই বিবেচিত হতো লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তবে সাম্প্রতিক সময়ের অগোছালো প্রশাসন, খেলোয়াড় ব্যবস্থাপনা ও কোচিং স্টাফের দুর্বলতার কারণে বাংলাদেশের হকি মারাত্মকভাবে পিছিয়ে পড়েছে।
এখন প্রশ্ন উঠেছে—এই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে হকি ফেডারেশন কি নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে? নাকি এশিয়া কাপ বঞ্চিত হওয়ার এই ধাক্কা দেশের হকিকে আরও নিচের দিকে নামিয়ে দেবে?
খবরওয়ালা/এমবি