খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৪ মে ২০২৬
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের সাম্প্রতিক বোর্ড সভায় দেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থার বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। নবনিযুক্ত সভাপতি তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত অ্যাডহক কমিটির তৃতীয় বোর্ড সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। মূলত ক্রিকেটের কাঠামোগত সংস্কার এবং আসন্ন নির্বাচনের রোডম্যাপ তৈরির অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে বোর্ড সূত্রে জানানো হয়েছে।
সোমবার, ৪ মে ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত বোর্ড সভায় চট্টগ্রাম, সিলেট এবং বরিশাল—এই তিন বিভাগের আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থার তৎকালীন অ্যাডহক কমিটিগুলো বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। বিসিবির পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, এই সিদ্ধান্ত ৪ মে থেকেই কার্যকর বলে গণ্য হবে। উল্লেখ্য যে, এই কমিটিগুলো ইতিপূর্বে বিসিবির সাবেক পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক মনোনীত হয়েছিল। আঞ্চলিক পর্যায়ে ক্রিকেটের কার্যক্রমে গতিশীলতা আনা এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরির পথ প্রশস্ত করতেই এই বিলুপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে।
বোর্ড সভায় শুধুমাত্র কমিটি বিলুপ্তি নয়, বরং বহুল প্রতিক্ষিত বিসিবি নির্বাচনের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি, তবে বিসিবি সংবিধানের বিধিবিধান অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু করার জন্য শীঘ্রই একটি আনুষ্ঠানিক নোটিশ জারি করা হবে।
বিসিবি সংবিধানের ১২.৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই নোটিশের মাধ্যমে দেশের সকল বিভাগ থেকে কাউন্সিলর মনোনয়ন আহ্বান করা হবে। কাউন্সিলর মনোনয়নের এই প্রক্রিয়াটি বিসিবি নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ এরাই পরবর্তীতে ভোটের মাধ্যমে নতুন পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন করবেন।
বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন প্রক্রিয়াটি তিনটি প্রধান ক্যাটাগরিতে বিভক্ত। নিচে একটি টেবিলের মাধ্যমে কাউন্সিলর নির্বাচনের কাঠামোটি তুলে ধরা হলো:
| ক্যাটাগরি | প্রতিনিধি বা সংশ্লিষ্ট সংস্থা | কাউন্সিলর নির্বাচনের প্রক্রিয়া |
| ক্যাটাগরি-১ | জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা | সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় সংস্থাগুলোর মাধ্যমে মনোনয়ন প্রদান করা হয়। |
| ক্যাটাগরি-২ | ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট (১ম, ২য় ও ৩য় বিভাগ) | ঢাকার তিনটি বিভাগে খেলুড়ে মোট ৭৬টি ক্লাবের প্রতিটির পক্ষ থেকে একজন করে প্রতিনিধি। |
| ক্যাটাগরি-৩ | প্রাক্তন ক্রিকেটার ও সরকারি সংস্থা | সাবেক জাতীয় খেলোয়াড়, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংস্থার মনোনীত প্রতিনিধি। |
বর্তমান সভাপতি তামিম ইকবাল ইতিপূর্বে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, বোর্ড জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্বাচনের আয়োজন করতে আগ্রহী। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বোর্ড সভায় তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এই কমিশনটি অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে।
নির্বাচন কমিশনের গঠন কাঠামো হবে নিম্নরূপ:
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় অথবা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ: এই সংস্থা থেকে একজন উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি কমিশনে অন্তর্ভুক্ত হবেন।
বিসিবি মনোনীত সদস্য: বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড থেকে মনোনীত দুইজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই কমিশনে রাখা হবে।
আঞ্চলিক কমিটি বিলুপ্তির মাধ্যমে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিসিবি মনে করে, সংবিধান অনুযায়ী দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করা গেলে বোর্ডের কার্যক্রমে পূর্ণ স্থায়িত্ব আসবে। বিশেষ করে অ্যাডহক কমিটির পরিবর্তে একটি নির্বাচিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেশের ক্রিকেটের নীতিনির্ধারণী বিষয়ে আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে পারবে।
বোর্ড সভায় গৃহীত এই সিদ্ধান্তগুলো দেশের তৃণমূল ক্রিকেট থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে কাউন্সিলর মনোনয়নের নোটিশ জারি হওয়ার পর দেশের ক্রিকেট মহলে নির্বাচনী আমেজ আরও বৃদ্ধি পাবে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির মূল লক্ষ্যই হলো একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে বিসিবির দায়িত্ব যোগ্য ব্যক্তিদের হাতে তুলে দেওয়া। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে।