খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী মুসলমানদের জন্য জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়া ‘হারাম’ ও ‘জায়েজ নয়’—এমন কড়া মন্তব্য করে নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দেওয়া তাঁর এই বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে ফটিকছড়ির কাজীর হাট বড় মাদ্রাসায় বোখারি শরিফ খতম উপলক্ষে আয়োজিত এক মাহফিলে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর। মাহফিলে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আল্লামা বাবুনগরী সরাসরি জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক ভূমিকা ও আদর্শের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তিনি বলেন, “সমস্ত মুসলমানদের বলে দিন—তাদের ভোট দেওয়া জায়েজ হবে না। এটা হারাম।” তাঁর এই মন্তব্যকে তিনি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন এবং জামায়াতকে ইসলামের মৌলিক চেতনার জন্য ক্ষতিকর বলে আখ্যায়িত করেন।
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে ইসলামের “গোড়া কেটে যাবে” এবং ইমানের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে। তাঁর ভাষায়, জামায়াত একটি বিভ্রান্তিকর রাজনৈতিক শক্তি, যা ইসলামের নামে রাজনীতি করে সাধারণ মুসলমানদের বিভ্রান্ত করছে। তিনি জামায়াতকে ‘মওদুদির জামায়াত’ উল্লেখ করে বলেন, তাদের সঙ্গে লড়াইকে তিনি নির্বাচন নয়, বরং ‘জিহাদ’ হিসেবে দেখেন। এ সময় সারোয়ার আলমগীরের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, তাঁদের সামনে রেখে তিনি এই আদর্শিক লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
আল্লামা বাবুনগরীর বক্তব্যের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো তাঁর ভাষার তীব্রতা। তিনি জামায়াতে ইসলামীকে ‘রগ কাটার গোষ্ঠী’ বলে উল্লেখ করেন, যা রাজনৈতিক শালীনতা ও সহনশীলতার প্রশ্নে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। তাঁর এই মন্তব্য ধর্মীয় নেতাদের রাজনৈতিক বক্তব্যের সীমা ও প্রভাব নিয়ে আলোচনা উসকে দিয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এটি প্রথমবার নয়। অতীতেও বিভিন্ন সময় হেফাজতে ইসলামের আমির জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে কঠোর মন্তব্য করেছেন। হেফাজত ইসলামের রাজনৈতিক অবস্থান সাধারণত স্বতন্ত্র হলেও নির্দিষ্ট সময়ে তারা কিছু রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা দেখিয়েছে। সাম্প্রতিক বক্তব্যকে অনেকেই আসন্ন নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় আবেগকে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
এই বক্তব্যের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাবও কম নয়। একদিকে ধর্মীয় অনুসারীদের একটি অংশ এতে সমর্থন জানালেও, অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা আশঙ্কা করছেন—এ ধরনের বক্তব্য সমাজে বিভাজন আরও গভীর করতে পারে। বিশেষ করে ধর্মীয় ব্যাখ্যার মাধ্যমে ভোটাধিকারকে ‘হারাম-হালাল’-এর ফ্রেমে উপস্থাপন করা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
নিচের টেবিলে ঘটনার মূল তথ্যগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| বক্তা | আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী |
| পদবি | আমির, হেফাজতে ইসলাম |
| স্থান | কাজীর হাট বড় মাদ্রাসা, ফটিকছড়ি |
| তারিখ | ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) |
| উপলক্ষ | বোখারি শরিফ খতম |
| মূল বক্তব্য | জামায়াতকে ভোট দেওয়া হারাম |
| উপস্থিত রাজনৈতিক ব্যক্তি | সারোয়ার আলমগীর (বিএনপি প্রার্থী) |
| বিতর্কের কারণ | ধর্মীয় ব্যাখ্যায় ভোট প্রসঙ্গ |
সব মিলিয়ে, আল্লামা বাবুনগরীর এই বক্তব্য ধর্ম, রাজনীতি ও নির্বাচনী সংস্কৃতির সংযোগস্থলে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। আগামী দিনে এ ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক মেরুকরণ কতটা বাড়াবে এবং ধর্মীয় নেতৃত্বের ভূমিকা কীভাবে মূল্যায়িত হবে—তা সময়ই বলে দেবে।