খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 7শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২০ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার প্রাক্কালে এক শিক্ষার্থীর জীবনে নেমে এসেছে চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশা। মোছা. জারিন তাসনিন সন্ধি নামের ওই পরীক্ষার্থী দীর্ঘ দুই বছর মানবিক বিভাগে অধ্যয়ন করার পর পরীক্ষার মাত্র একদিন আগে জানতে পারেন, দাপ্তরিক নথিতে তাকে বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার শিক্ষাজীবন নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।
রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে বিদ্যালয় থেকে প্রবেশপত্র গ্রহণের সময় বিষয়টি সামনে আসে। প্রবেশপত্রে ‘ব্যবসায় শিক্ষা’ বা বাণিজ্য বিভাগ উল্লেখ থাকায় হতবাক হয়ে পড়েন সন্ধি। উত্তর চাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মানবিক বিভাগ থেকে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সন্ধি জোতমোড়া নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পাস করার পর নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন। শুরুতে স্বল্প সময়ের জন্য বাণিজ্য বিভাগে থাকলেও পরে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত কারণে মানবিক বিভাগে স্থানান্তরিত হন। এরপর নবম ও দশম শ্রেণি জুড়ে তিনি মানবিক বিভাগেই নিয়মিত পড়াশোনা করেন এবং দশম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় ৮০৭ নম্বর পেয়ে বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেন।
তবে বাস্তবতা বদলে যায় প্রবেশপত্র হাতে পাওয়ার পর। সরেজমিনে দেখা যায়, তার কক্ষে মানবিক বিভাগের বইপত্র ছড়িয়ে আছে, যা তার প্রস্তুতির স্পষ্ট প্রমাণ বহন করে। চোখেমুখে হতাশা নিয়ে সন্ধি বলেন, “পরীক্ষা শুরু হতে আর একদিন বাকি। এতদিন মানবিক বিভাগে পড়েছি, ভালো ফলও করেছি। এখন হঠাৎ বাণিজ্যের পরীক্ষায় বসা আমার পক্ষে অসম্ভব।”
তার অভিযোগ, বিভাগ পরিবর্তনের বিষয়টি শিক্ষকদের জানানো হলেও তারা নথিপত্রে তা সংশোধন করেননি। ফলে রেজিস্ট্রেশন ও বোর্ডের কাগজপত্রে আগের বিভাগই থেকে গেছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী বলেন, “যে বিভাগে রেজিস্ট্রেশন হয়েছে, সেই বিভাগেরই প্রবেশপত্র এসেছে। শিক্ষার্থী যদি ভিন্ন বিভাগে পড়াশোনা করে, সেটির দায় বিদ্যালয় নিতে পারে না।” তবে তিনি এ সমস্যার সমাধানে শিক্ষা বোর্ডে যোগাযোগের কথা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, জোতমোড়া নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “শিক্ষার্থী শুরুতে বাণিজ্য বিভাগে ভর্তি হয়েছিল এবং রেজিস্ট্রেশনও সেই অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুল হক জানান, বিষয়টি তার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দেরিতে এসেছে। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
নিম্নে ঘটনাটির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| শিক্ষার্থীর নাম | মোছা. জারিন তাসনিন সন্ধি |
| প্রতিষ্ঠান | উত্তর চাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় |
| প্রকৃত অধ্যয়ন বিভাগ | মানবিক |
| রেজিস্ট্রেশন বিভাগ | বাণিজ্য |
| পরীক্ষার তারিখ | ২১ এপ্রিল |
| সমস্যা উদ্ভব | প্রবেশপত্র বিতরণের দিন |
| সর্বশেষ ফলাফল | ৮০৭ নম্বর, বিভাগে প্রথম |
সন্ধির পারিবারিক প্রেক্ষাপট বিষয়টিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। জানা গেছে, তিনি এতিম—বাবা-মা দুজনকেই হারিয়েছেন। তার ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে এই প্রশাসনিক জটিলতার দ্রুত সমাধানের ওপর। পরিবারটির আশঙ্কা, মানবিক বিভাগের প্রবেশপত্র না পেলে তার পক্ষে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের প্রশাসনিক ত্রুটি শুধু একজন শিক্ষার্থীর নয়, বরং পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার জবাবদিহিতা ও তদারকির ঘাটতিকে সামনে আনে। দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে মেধাবী এই শিক্ষার্থীর একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাবর্ষ অনিশ্চয়তায় পড়ে যেতে পারে।