ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম পৃথকীকরণ ওয়ার্ডে হামের লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া শিশুটির বয়স ছিল সাড়ে তিন মাস। একই সঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৮টি শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৮৪টি শিশু।
মৃত শিশুটির নাম আরিশা। সে ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার হরিরামপুর গ্রামের আরাফাত হোসেন ও রুমা আক্তার দম্পতির সন্তান। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ এপ্রিল শিশুটিকে হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শনিবার বেলা আনুমানিক সোয়া দুইটার দিকে তার মৃত্যু হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুটির হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়াজনিত জটিলতাও ছিল, যা তার শারীরিক অবস্থাকে আরও সংকটাপন্ন করে তোলে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ১৭ মার্চ থেকে শুরু করে আজ সকাল পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ৮৫৬টি শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৭৫৫টি শিশু। এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছে মোট ১৭টি শিশু। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৮৪টি শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে আরও ৩৩টি শিশু, একই সময়ে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ২৮টি শিশু।
চিকিৎসকদের মতে, হামের সংক্রমণ শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে যেসব শিশু সময়মতো টিকা গ্রহণ করেনি, তাদের মধ্যে ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি বলে তারা উল্লেখ করেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং আক্রান্ত শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নিচে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির একটি সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—
| সূচক |
সংখ্যা |
| মোট ভর্তি (১৭ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত) |
৮৫৬ |
| সুস্থ হয়ে ছাড়পত্রপ্রাপ্ত |
৭৫৫ |
| মৃত্যুবরণ |
১৭ |
| বর্তমানে চিকিৎসাধীন |
৮৪ |
| গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি |
২৮ |
| গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়পত্র |
৩৩ |
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে আরও একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন রোগী ভর্তি ও ছাড়পত্রের সংখ্যা নিয়মিতভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, যা পরিস্থিতির চলমানতা নির্দেশ করে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের সংক্রমণ প্রতিরোধে সময়মতো টিকাদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে আসা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, শিশুদের হামের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নেওয়ার জন্য।
বর্তমানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত চাপ মোকাবিলায় পৃথকীকরণ ওয়ার্ডে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসাসেবা প্রদান অব্যাহত রেখেছে।