খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৬ মে ২০২৬
নওগাঁ জেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় তিন জন কৃষক নিহত হয়েছেন এবং আরও দুই জন গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (৬ মে) দুপুরে জেলার মহাদেবপুর ও নিয়ামতপুর উপজেলার তিনটি গ্রামে এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। নিহতদের মধ্যে দুই জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং অন্যজন পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে আসা ধানকাটা শ্রমিক বলে জানা গেছে।
মহাদেবপুর উপজেলার রাইগাঁ ইউনিয়নের আলিদেওনা কুড়াপাড়া গ্রামে দুপুরে বৃষ্টির সাথে বজ্রপাত শুরু হলে মাঠে কর্মরত কৃষকরা আক্রান্ত হন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুড়াপাড়া দিঘীর পাড়ে জমিতে ধান কাটার সময় বিকট শব্দে বজ্রপাত ঘটলে ঘটনাস্থলেই দিলীপ চন্দ্র বর্মন (৫০) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত হরিচরণ বর্মনের ছেলে। এ সময় তার সাথে থাকা জীবন ও নারায়ণ নামের আরও দুই জন গুরুতর আহত হন।
অন্যদিকে, নিয়ামতপুর উপজেলার রামনগর গ্রামে ধান নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতের কবলে পড়ে অনুকূল চন্দ্র মাহন্ত (৪৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের পাতু মাহন্তের ছেলে। একই উপজেলার খোদ্দচাম্পা গ্রামে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে আরও এক অজ্ঞাতনামা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত এই ব্যক্তি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার খাসের হাট উঠাপাড়া এলাকার বাসিন্দা বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে।
মহাদেবপুরে বজ্রপাতে আহত জীবন (মদনের ছেলে) ও নারায়ণকে (মৃত লক্ষণের ছেলে) তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা উদ্ধার করে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। তবে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে এবং আঘাতের তীব্রতা বেশি হওয়ায় হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করার পরামর্শ দেন।
| উপজেলার নাম | গ্রাম/এলাকা | নিহতের সংখ্যা | আহত | নিহতের পরিচয় |
| মহাদেবপুর | আলিদেওনা কুড়াপাড়া | ১ | ২ | দিলীপ চন্দ্র বর্মন |
| নিয়ামতপুর | রামনগর | ১ | ০ | অনুকূল চন্দ্র মাহন্ত |
| নিয়ামতপুর | খোদ্দচাম্পা | ১ | ০ | অজ্ঞাত (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) |
| মোট | ৩ | ২ |
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ওমর ফারুক এবং নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান যে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই আকস্মিক ঘটনায় পৃথক স্থানে মোট তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। স্থানীয় প্রশাসন নিহতদের পরিবারকে দুর্যোগ সহায়তা প্রদানের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, মে মাসে কালবৈশাখী ও বজ্রবৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে বরেন্দ্র অঞ্চলে মাঠের খোলা জায়গায় কাজ করার সময় কৃষকরা বজ্রপাতের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকেন। এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রশাসন ও আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে না থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য কৃষকদের বারবার সচেতন করা হচ্ছে।