খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 30শে মাঘ ১৪৩২ | ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলার এক দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ)—যা স্থানীয়ভাবে ‘বম পার্টি’ নামেও পরিচিত—তাদের একটি আস্তানায় সফল অভিযান পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানের ফলে সশস্ত্র গোষ্ঠীটির একটি সম্ভাব্য ঘাঁটি ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে এবং সেখান থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রসদ ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সূত্রে জানা গেছে, রুমা জোনের অধীনস্থ প্রতাপপাড়া নামক অত্যন্ত দুর্গম এলাকায় কেএনএ’র একটি সশস্ত্র দল অবস্থান করছে বলে খবর পায় সেনাবাহিনী। দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে সেনাবাহিনীর একটি দক্ষ দল মধ্যরাতে লক্ষ্যস্থলে পৌঁছায়। তবে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে ঘন জঙ্গলের সুযোগ নিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা তাদের আস্তানা ফেলে দ্রুত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, আস্তানাটিতে ১০ থেকে ১৫ জন সশস্ত্র সদস্য অবস্থান করছিল এবং তারা বড় ধরনের কোনো নাশকতার পরিকল্পনা করছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সেনাবাহিনীর এই অভিযানে কোনো প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও আস্তানাটি তছনছ করা হয়েছে এবং সেখানে থাকা যাবতীয় মালামাল জব্দ করা হয়েছে। এই আস্তানাটি মূলত ওই এলাকায় তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও রসদ মজুতের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
| ক্রমিক | উদ্ধারকৃত সামগ্রীর ধরন | বিস্তারিত বিবরণ |
| ০১ | আগ্নেয়াস্ত্র ও অস্ত্র | একটি সচল এয়ারগান ও বেশ কিছু দেশীয় ধারাল অস্ত্র |
| ০২ | রসদ সামগ্রী | বিপুল পরিমাণ শুকনো চাল, ডাল, তেল ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী |
| ০৩ | রান্নার সরঞ্জাম | হাড়ি-পাতিল, গ্যাস বার্নার ও ব্যবহারের জন্য তৈজসপত্র |
| ০৪ | পোশাক ও সরঞ্জাম | গোষ্ঠীর বিশেষ পোশাক, বেল্ট, ব্যাগ এবং প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র |
| ০৫ | যোগাযোগ ও অন্যান্য | ব্যাটারি, টর্চলাইট এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারের আনুষঙ্গিক সামগ্রী |
বান্দরবানের রুমা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পার্বত্য অঞ্চলে কেএনএ’র মতো বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর অবাধ চলাচল, ঘাঁটি স্থাপন এবং নিরীহ মানুষের ওপর আধিপত্য বিস্তারের অপচেষ্টা রোধে ধারাবাহিক টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সেনাবাহিনীর এই পদক্ষেপের ফলে স্থানীয় পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, দুর্গম এলাকায় এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীর আনাগোনা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছিল। সেনাবাহিনীর এই নিয়মিত অভিযানের ফলে সন্ত্রাসীদের নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়ে পড়ছে। আইএসপিআর এবং সংশ্লিষ্ট সামরিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জোরালো অভিযান চলবে। বর্তমানে প্রতাপপাড়া ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন করে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি চুক্তি ও উন্নয়ন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে লিপ্ত এসব অপশক্তির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে সরকার। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে স্থানীয় জনগণকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, পাহাড়ি অঞ্চলে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সর্বদা প্রস্তুত।