খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 9শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও একুশের চেতনার পুনঃপ্রকাশের মাধ্যমে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশর (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান শনিবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, দুর্নীতি এবং ধর্মান্ধতা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও একুশের চেতনার মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “একুশের চেতনা হচ্ছে মানবাধিকার, সমতার প্রতীক। দেশের সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের মৌলিক দায়িত্ব। ধর্ম, লিঙ্গ, জাতি, ভাষা বা সামাজিক অবস্থানের ভিত্তিতে বৈষম্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যারা নারীর অধিকার, ধর্মীয় সংখ্যালঘু, জাতিগত সংখ্যালঘু, আদিবাসী ও প্রতিবন্ধীদের অধিকার হরণ করে, তারা একুশের চেতনার পরিপন্থী আচরণ করছেন। আমরা তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করি।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি এমন দেশ হতে পারে যেখানে একুশের চেতনা বাস্তবায়িত হবে। যেখানে সকল মানুষের সমান অধিকার, সামাজিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং সহাবস্থান নিশ্চিত করা হবে। তিনি জানান, সমাজের সকল স্তরে দুর্নীতি ও বৈষম্য দূর করার মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।
ড. ইফতেখারুজ্জামানের ভাষণে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল সমাজের প্রান্তিক ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষা। তিনি বলেন, “নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী, আদিবাসী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু—এই সমস্ত গোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা না হলে, আমরা একুশের মূল চেতনা বাস্তবায়ন করতে পারব না।”
বাংলাদেশে বিভিন্ন সামাজিক সূচকের তথ্যও একুশের চেতনার সঙ্গে সম্পর্কিত। নিম্নলিখিত টেবিলে দেশের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সূচক এবং বৈষম্য সম্পর্কিত তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলোঃ
| সূচক | বর্তমান মান | মন্তব্য |
|---|---|---|
| নারী শিক্ষার হার | ৭২% | শিক্ষার ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের মধ্যে ব্যবধান কমেছে |
| শিশু বেকারত্ব | ৩.৫% | শিশু শ্রমের হ্রাস প্রয়োজন |
| ধর্মীয় সংখ্যালঘু সংখ্যা | ৯% | সংখ্যালঘুদের অধিকার সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ |
| প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ | ৪৫% | উন্নয়নের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি প্রয়োজন |
| দুর্নীতির সূচক (টিআইবি) | ২৮/১০০ | স্বচ্ছতা বৃদ্ধির প্রয়োজন |
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “দূর্নীতি ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করা সমাজের দায়িত্ব। সরকার, নাগরিক সমাজ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যৌথ প্রচেষ্টা ছাড়া একুশের চেতনা সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।”
তিনি শেষে যোগ করেন, “আমরা একটি এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে স্বাধীনতা ও সমতার চেতনা প্রতিটি নাগরিকের জীবন ও সমাজের সব স্তরে প্রতিফলিত হবে। এটি হলো একুশের মূল চেতনা—সমতার সঙ্গে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা।”