খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সম্প্রতি বাংলাদেশকে সতর্ক করেছে যে, দুর্বল অবস্থায় থাকা ব্যাংকগুলোকে অনিরাপদ বা ঝুঁকিপূর্ণ তরল তহবিল প্রদান অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে। সংস্থাটি দেশের জন্য সম্পূর্ণ বিনিময় হার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং আর্থিক খাতের সংস্কারকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার আহ্বান জানিয়েছে।
আইএমএফ-এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থান এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের পদক্ষেপকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। আর্টিকেল ফোর পরামর্শ কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর গত শুক্রবার এই বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয়েছে। এটি বাংলাদেশের জন্য সাড়ে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের ঋণ সুবিধার শর্তাবলী বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনার অংশ।
সংস্থার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে মূলধনের ঘাটতি, ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ এবং আইনগতভাবে দুর্বল পুনর্গঠন পরিকল্পনা রয়েছে। আইএমএফ উল্লেখ করেছে, আর্থিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যাংক সংস্কারের কৌশল অপরিহার্য। এ কৌশলে অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে:
মূলধনের ঘাটতি নিরূপণ
রাজস্ব সহায়তার কাঠামো নির্ধারণ
শক্তিশালী আইনগত পুনর্গঠন ও সমাধান পরিকল্পনা
আইএমএফ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সম্পদের মান পর্যালোচনা, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি বৃদ্ধি এবং ব্যালান্স শিটের স্বচ্ছতা জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছে। এছাড়া, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠন এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। সংস্থাটি মনে করছে, বিনিময় হার সংস্কার ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন ও আরও নমনীয় করা প্রয়োজন, এবং দুর্বল ব্যাংকে অনিরাপদ তহবিল সরবরাহের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।
মূল্যস্ফীতির বিষয়ে আইএমএফ জানিয়েছে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দুই অঙ্কের থেকে কমে আসা সার্বিক মূল্যস্ফীতি অক্টোবরে ৮.২ শতাংশ ছিল। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এটি ৮.৯ শতাংশে পৌঁছাবে এবং ২০২৭ সালে কমে প্রায় ৬ শতাংশে নেমে আসবে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে, মধ্যমেয়াদে এটি প্রায় ৬ শতাংশে উন্নীত হবে। আইএমএফ উচ্চারণ করেছে যে, রাজস্ব স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, ব্যাংক খাতের ঝুঁকি কমানো, সামাজিক সুরক্ষা শক্তিশালী করা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিস্তৃত কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন অপরিহার্য।
নিম্নে বাংলাদেশ অর্থনীতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূচকের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান উপস্থাপন করা হলো:
| সূচক | ২০২৪–২৫ | ২০২৫–২৬ (প্রকৃত) | ২০২৭ (প্রকৃত) |
|---|---|---|---|
| মূল্যস্ফীতি (%) | ৮.২ | ৮.৯ | ৬.০ |
| অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (%) | ৫.০ | ৪.৭ | ৬.০ |
| বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ (বিলিয়ন USD) | ৪২ | ৪৫ | ৫০ |
আইএমএফ-এর মূল বার্তা হলো, দুর্বল ব্যাংক ও রাজস্ব কাঠামোর ঝুঁকি সমাধান না করলে অর্থনীতিতে সামষ্টিক–আর্থিক চ্যালেঞ্জ বৃদ্ধি পাবে এবং প্রবৃদ্ধি ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।